https://www.emjanews.com/

17026

sylhet

প্রকাশিত

১১ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩৭

আপডেট

১১ জুলাই ২০২৬ ১৭:৫৭

সিলেট

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে টাকার পাহাড়: ৪টি মেশিনে হবে গণনা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩৭

সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানীখ্যাত হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয়েছে দানবাক্স ও ঐতিহাসিক তিনটি ডেক। আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নবগঠিত মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এই অর্থ গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। গণনা কাজে সহায়তা করছে মাজার সংলগ্ন মাদ্রাসার প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে গণনার জন্য এবার চারটি মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত জুন মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বিশেষ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়েছিল। গত ২২ জুন প্রথম দফার গণনায় মাত্র চার দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা সোনালী ব্যাংকের একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের শুরুতে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে আজ দ্বিতীয় দফায় টাকা গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে মাজারের দানবাক্স ও ডেকগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাজারের আয়-ব্যয় নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের কৌতুহল নিরসনে গত ২৬ জুন সরকার ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং মাজারের মোতোয়ালি পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক কাঠামোর আধুনিকায়ন ও একটি স্থায়ী স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজকের এই গণনা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্তের দানে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এই মাজারের বাক্সগুলো। স্বচ্ছতার এই নতুন পদক্ষেপে মাজারের ভক্ত ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।