https://www.emjanews.com/

17125

surplus

প্রকাশিত

১৪ জুলাই ২০২৬ ২২:০০

অন্যান্য

ফার্মের মুরগি কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ ২২:০০

ছবি: সংগৃহীত

পুষ্টির অন্যতম সহজলভ্য উৎস হিসেবে ব্রয়লার বা ফার্মের মুরগি বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এটি স্বাস্থ্যসম্মত কি না, তা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের সংশয় রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রয়লার মুরগি ক্ষতিকর নয়; বরং এর উৎপাদন প্রক্রিয়া ও রান্নার পদ্ধতির ওপরই নির্ভর করে এর গুণমান। নিরাপদ উপায়ে উৎপাদন এবং সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করা হলে এটি হতে পারে প্রোটিনের এক আদর্শ আধার।

চিকিৎসক ডা. সাহানাজ এ বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, ব্রয়লার মুরগিতে উচ্চমানের প্রোটিন ছাড়াও ভিটামিন বি-১২, বি-৬, নিয়াসিন, ফসফরাস, সেলেনিয়াম ও জিংকের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। মূলত মুরগিটি কীভাবে লালন-পালন করা হয়েছে এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নীতিমালা মানা হয়েছে কি না, তার ওপর এর নিরাপত্তা নির্ভর করে।

তিনি আরও জানান, কিছু অসাধু খামারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেন এবং জবাইয়ের আগে প্রয়োজনীয় বিরতি অনুসরণ করেন না। এতে মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

দ্রুত বৃদ্ধির জন্য হরমোন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণা নিয়ে ডা. সাহানাজ বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে এ দাবির শক্ত কোনো ভিত্তি নেই। মূলত উন্নত জাত, সুষম পুষ্টি ও উন্নত খামার ব্যবস্থাপনার ফলেই ব্রয়লার মুরগি দ্রুত বড় হয়। তবে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জবাই বা সংরক্ষণ করলে এতে সালমোনেলা বা ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই কাঁচা মাংস কেনা ও তা ধোয়ার সময় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ থাকার জন্য চামড়াবিহীন ব্রয়লার মুরগির মাংস খাওয়া বেশি নিরাপদ। দেশি ও ব্রয়লার মুরগির স্বাদে ভিন্নতা থাকলেও পুষ্টিগত মানে বড় কোনো ব্যবধান নেই। মুরগি নিরাপদ রাখতে সবসময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে কেনা, পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত মাংস বর্জন করা এবং মাংস প্রেশার কুকার বা চুলায় ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করা অপরিহার্য। পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করা ব্রয়লার মুরগি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিশ্চিন্তে রাখা যেতে পারে।