https://www.emjanews.com/

18946

surplus

প্রকাশিত

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৬

অন্যান্য

কানাডার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশিদের অবস্থান গড়ার আহ্বান

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৬

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার মূলধারার রাজনীতি, নীতি-নির্ধারণী পর্যায় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব স্তরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের বলিষ্ঠ অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ ক্যাটারিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এমবিই।

তিনি বলেছেন, প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য করে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে কানাডার রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে।

গেলো রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কানাডার টরন্টোর ডেনফোর্থে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পাশা খন্দকার বলেন, নিজেদের শেকড় ও পরিচয়কে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে কানাডীয় বাংলাদেশি হিসেবে মূলধারায় আত্মপ্রকাশ ঘটাতে হবে। নতুন প্রজন্মকে যোগ্য করে তুলতে হবে, যেন তারা প্রশাসন ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

যুক্তরাজ্য ও কানাডার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পরও প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতরা রাজনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদেরও যোগ্যতা ও সক্ষমতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পিছিয়ে থাকার দিন শেষ। যোগ্যতার মাধ্যমে কানাডার ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

নতুন প্রজন্মের বিষয়ে পাশা খন্দকার বলেন, সন্তানদের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তারা কানাডার রাজনীতি, প্রশাসন ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অধিষ্ঠিত হয়ে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করতে পারে।

তবে এই অর্জনের পথে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়কে হৃদয়ে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে যুক্তরাজ্যে প্রবাসীদের ত্যাগ ও পরিশ্রমে গড়ে ওঠা বহু বিলিয়ন পাউন্ডের ‘ব্রিটিশ কারি শিল্প’-এর সংগ্রাম ও সাফল্যের উদাহরণও তুলে ধরেন পাশা খন্দকার।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সরকার নিয়ে আলোচনার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন ও জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে সিলেটের উন্নয়নে সরকার ও স্থানীয় দায়িত্বশীলদের ধারাবাহিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

কানাডা বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট নেতা ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সাবেক সভাপতি মাহবুব চৌধুরী রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কমিউনিটি নেতা রোটারিয়ান মঈন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সাবেক সভাপতি ও রাজনীতিবিদ আহাদ খন্দকার।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কানাডা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ছাদ চৌধুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরী, কানাডা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তপন মাহমুদ, সাবেক চেয়ারম্যান মিসবাহুল কাদির ফাহিম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সাবেক সভাপতি জাকির খান, নিউজ ডিপ্লোমেটস-এর সম্পাদক ও প্রকাশক দুলাল আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতি সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সিলেট সদর অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন রিপন, অন্টারিও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইমন চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টোর সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু জহির সাকিব, অর্থ সম্পাদক সিপিএ যুবায়ের আহমেদ, প্রবাসী টিভির সিইও আরিফ হোসেন, সাংবাদিক দিন ইসলাম, আব্দুল বাতিন ফয়সাল ও শাহজাহান সেলিম বুলবুল।

এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব লন্ডন অন্টারিওর সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, কমিউনিটি নেতা মকবুল হোসেন, মহসিন আহমদ চৌধুরী, ইউসুফ তালুকদার, লায়েকুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী রেজা, গিয়াস উদ্দিন, সোহেলুজ্জামান সুহেল, মাসরুর হোসেন রিপন, মিজান চৌধুরী, বাপ্পী রহমান, তানভীর চৌধুরী, সাহেদ আহমদ, নাহিদ আহমদ ও বেলাল আহমদ চৌধুরীসহ স্থানীয় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।