ছবি: সংগৃহীত
রহস্যময় এক বিশাল গ্যাসভর্তি বেলুনকে ঘিরে তুমুল আতঙ্ক ছড়িয়েছে শিলচর শহরের অদূরে মাসিমপুর সুবেদারবস্তি এলাকায়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কাছাড়ের পুলিশ সুপার (এসএসপি) পার্থপ্রতীম দাস নিজেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ বেলুনটি নিজেদের হেফাজতে নিলেও এলাকায় আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। কারণ, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে-বেলুনটি বাংলাদেশের সিলেট থেকে উড়ে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রহস্যজনক এই বেলুনের উৎস ও উদ্দেশ্য জানতে উচ্চস্তরীয় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে কাছাড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুব্রত সেন রোববার বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে বেলুনটি বাংলাদেশের সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়ার এলাকার একটি হাইস্কুল থেকে আকাশে উড়ানো হয়েছিল।
তিনি জানান, গ্যাসভর্তি ওই বেলুনে তিনজন ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত ছিল। সেটি উড়ে এসে মাসিমপুর এলাকার একটি খেতের মাঠে পড়ে যায়। বিশালাকৃতির বেলুনটি দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতেই বেলুনটি মাঠে পড়ে যায়। ভোরে গরু-মহিষ চরাতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রথম বেলুনটি দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি এলাকার ভিডিপি সম্পাদক সুমন দাসকে জানান। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। এরপর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এসএসপি পার্থপ্রতীম দাস নিজে ঘটনাস্থলে যান। পরে বেলুনটির ভেতরের গ্যাস বের করে সেটি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে এসএসপি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে, মাসিমপুর এলাকায় আতঙ্কের মাত্রা আরও বেড়েছে কয়েকটি কারণে। স্থানীয়দের মতে, ওই এলাকাতেই ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিএসএফের কাছাড়-মিজোরাম ফ্রন্টিয়ারের সদর দফতর অবস্থিত। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের ঘটনা মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বেলুনটি কী উদ্দেশ্যে উড়ানো হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় আছে কি না- সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
