https://www.emjanews.com/

13181

economics

প্রকাশিত

১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:১৬

অর্থনীতি

নতুন সরকারি বেতন স্কেল ও একটি বেসরকারি ভাবনা

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:১৬

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে চলেছে। পে কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করা হবে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে থাকায় বেসরকারি খাতের কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি খাতের বেতন বৃদ্ধি দ্রব্যমূল্যের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ও বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি খাতের বেতন বৃদ্ধি বাজারে চাহিদা বাড়াতে পারে। এতে দৈনন্দিন খাদ্য ও পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সিলেটের একটি বেসরকারি বিদ্যালযে কর্মরত এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সরকারি বেতন বৃদ্ধি হলে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়বে। এই অবস্থায় দ্রব্যমূল্য দ্রুত বাড়তে পারে। আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যয়বহুল করে তুলছে। এর মধ্যে নিম্ন আয়ের বেসরকারি শিক্ষকরা নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।’ 

কারণ হিসেবে ওই শিক্ষক বলেন, ‘সরকারি বেতন বৃদ্ধি হলে খুচরা বাজারে চাহিদা বাড়বে। ফলে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের উপার্জন বর্তমান খরচ সামলাতে যথেষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে শহুরে অঞ্চলে জীবনযাত্রার ব্যয় ইতিমধ্যেই উচ্চ। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পর এটি আরও চাপ তৈরি করতে পারে।’

একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি বেতন অনুযায়ী কর্মীদের বেতন সমন্বয় করতে বাধ্য হলে তাদের খরচও বেড়ে যাবে। এতে উৎপাদনমূল্য বৃদ্ধি এবং পণ্যের দাম বৃদ্ধির চক্র শুরু হতে পারে।

মনে করাই যায়, সরকারি বেতন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, সাধারণ মানুষ এবং বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা অগ্রাহ্য করা যায় না।