শহর ছেড়ে গ্রামের পথে আরিফ
প্রার্থীদের স্ত্রীদের মধ্যে ব্যতিক্রম আরিফপত্নী শ্যামা হক চৌধুরী। স্বামীর পক্ষে প্রচারণায় শুরু থেকেই মাঠে আছেন তিনি।
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:২০
ছবি: ইমজা নিউজ
আওয়ামী লীগ আমলে দশ বছর ছিলেন নগর সিলেটের মেয়র। এর আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সহজ জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে অংশ নেননি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এখনও অঘোষিত ‘মেয়র’ আরিফুল হক চৌধুরী। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় আরিফকে এখন নগর ছেড়ে ছুটতে হচ্ছে সীমান্তের গ্রাম-গঞ্জে। তার এই গ্রামযাত্রায় সঙ্গী হয়েছেন স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী।
সিলেটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় প্রার্থীদের স্ত্রীদের খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি এখন পর্যন্ত। ব্যতিক্রম আরিফপত্নী। ভারত সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনের ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে নিয়মিতই উঠান বৈঠক করছেন তিনি। বিশেষত কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট এলাকার নারী ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব বাড়ছে। এর আগে সিটি নির্বাচনেও স্বামীর পক্ষে মাঠে ছিলেন সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক শ্যামা হক।
গোয়াইনঘাট উপজেলার ছৈলাখেল ৮ম খণ্ড এলাকায় একটি উঠান বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী একজন কাজপাগল মানুষ। নগরীতে কাজের মাধ্যমেই তিনি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি থেকে আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে এই এলাকার অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনেও তিনি বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সিলেট-৪ আসনে এবার বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতের জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা) এবং গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী ৫ প্রার্থীর মধ্যে শেষ লড়াইটা হতে পারে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ও জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের মধ্যে। আরিফুল হক চৌধুরী হেভিওয়েট প্রার্থী হলেও জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ায় জয়নাল আবেদীনের নিজ এলাকার ভোটারদের বড় অংশ তার পক্ষে রয়েছেন।
শুক্রবার জৈন্তাপুরের চিকনাগুলে গণসংযোগে অংশ নিয়ে জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, স্থানীয় ভোটাররা এবার তাদের নিজ এলাকার মানুষ হিসেবে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকেই নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবেন।
জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন আরিফ। এই এলাকা অনেকটাই চেনা তার। দলের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হয়েছেন সিলেট-৪ আসনে। দলের স্থানীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে আসছিলেন।
মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর দলের মনোনয়ন-বঞ্চিতদের সাথে পাশে টানতে উদ্যোগি দেখা গেছে আরিফকে। নগরে জনপ্রিয় হলেও গ্রামাঞ্চলের ভোটে জয়ি হতে তাকে স্থানীয় বিএনপির ঐক্য নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, পর্যটনের জন্য সুখ্যাত সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, বিছানাকান্দি, রাতারগুল, লালাখালের মতো বেশির ভাগ পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান এই তিন উপজেলায়। প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাসক্ষেত্র সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের বালু ও পাথরও বড় বাণিজ্যিক উপাদান। দীর্ঘ ও দুর্গম সীমান্ত এলাকা ছাড়াও এই এলাকার তামাবিল ও ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর নিয়ে নিয়মিতই পণ্য আমদানি-রফতানি হয়।
