https://www.emjanews.com/

13311

sylhet

প্রকাশিত

২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:০৬

আপডেট

২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:২৮

সিলেট

‘লন্ডনি’ বনাম ‘লোকাল’: সিলেটের ভোটে গেম চেঞ্জার প্রবাসীরা?

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:০৬

সিলেটের রাজনীতিতে একটি কথা প্রচলিত আছে- ‘ভোট দেন স্থানীয়রা, কিন্তু কলকাঠি নাড়েন লন্ডনিরা’। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই কথাটি যেন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সিলেটের নির্বাচনী মাঠে প্রবাসীদের প্রভাব এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

নির্বাচনের মাত্র ১৭ দিন বাকি। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রবাসী সিলেটে ফিরতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য বা ‘লন্ডন’ থেকে আসা প্রবাসীদের আধিক্য সিলেটের ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে চলছে জোর আলোচনা- আগামীর এমপি কি হবেন মাটির কাছের ‘লোকাল’ নেতা, নাকি সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা ‘লন্ডনি’ বা তাদের আশীর্বাদপুষ্ট কেউ?

পোস্টাল ব্যালটে রেকর্ড: নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেটের প্রবাসীদের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার আগ্রহ তুঙ্গে। প্রায় অর্ধলক্ষ প্রবাসী পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছেন, যা একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। অতীতে প্রবাসীরা মূলত অর্থায়ন ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রভাবিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন। কিন্তু এবার তারা সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী, যা অনেক আসনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে।

প্রার্থী যখন প্রবাসী: সিলেটের বেশ কয়েকটি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরা সরাসরি প্রবাসের সাথে যুক্ত। সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালিক এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এম কয়সর আহমদ দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এছাড়া ড. রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১) ও ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরীর মতো প্রার্থীরাও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত। স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, প্রবাসী প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আনতে পারবেন।

‘লোকাল’ সেন্টিমেন্ট: অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে যারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করে আসছেন, তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট-১ আসনের এক ভোটার বলেন, “বিপদের সময় যাদের পাশে পাই, ভোট তাদেরই দেব। লন্ডনিরা ভোটের সময় আসেন, ভোট শেষে আবার উড়াল দেন।” তবে প্রার্থীদের হলফনামা বলছে ভিন্ন কথা। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, তাহসিনা রুশদীর লুনার মতো স্থানীয় হেভিওয়েট প্রার্থীরাও তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনদের অনুদানের ওপরই নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিলেটের অর্থনীতি যেমন প্রবাসীদের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি রাজনীতিও তাদের প্রভাবমুক্ত নয়। এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণ, পোস্টাল ভোট এবং অর্থায়ন সব মিলিয়ে তারাই হয়ে উঠতে পারেন জয়-পরাজয়ের মূল ‘গেম চেঞ্জার’। এখন দেখার বিষয়, ব্যালট বিপ্লবে ‘লন্ডনি’ প্রভাব নাকি ‘লোকাল’ জনপ্রিয়তার জয় হয়।