https://www.emjanews.com/

14428

international

প্রকাশিত

১৬ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৪

আন্তর্জাতিক

আরএসএস ও র-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র)-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ)। ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশ ক্রমেই অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, উপাসনালয়ে আক্রমণ এবং বিভিন্ন আইনি চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি কমিশন উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

একই সঙ্গে কমিশন সুপারিশ করেছে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সম্পদ জব্দ করা এবং সংগঠনটির সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। প্রতিবেদনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, সংস্থাটির কিছু কর্মকাণ্ড ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে বিতর্ক তৈরি করেছে।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মার্কিন কমিশনের প্রতিবেদনে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশনের মতে দেশে ধর্মীয় সহনশীলতার পরিবেশ আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বেশ কিছু ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্যে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব–এর সমাধি অপসারণের দাবিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-এর সহিংস আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা। কমিশনের মতে, এসব ঘটনায় ধর্মীয় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া গত বছরের জুনে ওডিশা রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হামলায় কয়েকটি খ্রিষ্টান পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জোরপূর্বক ধর্মান্তর রোধের নামে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব আইনে অনেক ক্ষেত্রে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে এবং এর প্রয়োগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব যাচাই ও নজরদারির নানা উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে দাবি কমিশনের।

তবে ভারতের সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অতীতে এ ধরনের প্রতিবেদনকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করেছিল।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে ভারতের তৎকালীন রাজনীতিক এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে এক সময় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

মার্কিন কমিশনের এই নতুন প্রতিবেদনের পর আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।