https://www.emjanews.com/

14444

sylhet

প্রকাশিত

১৭ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫৫

সিলেট

ঈদকে ঘিরে সিলেটের ৪৭টি স্পট নিয়ে কী বলছে পুলিশ?

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫৫

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো সিলেটেও সম্ভাব্য যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকির জায়গা চিহ্নিত করেছে পুলিশ। বিশেষ করে সিলেট সংশ্লিষ্ট মহাসড়কের ৪৭টি স্থান নিয়ে বাড়তি সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সারাদেশে বিস্তৃত নিরাপত্তা ছক প্রণয়ন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এই পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সড়কপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে।

পুলিশ সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে মোট ২০৭টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ৫০টি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি করে, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯টি এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কে ৬টি স্থান রয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের যানজট সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

রোববার এক জুম মিটিংয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এ নির্দেশনা দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির। সভায় বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আইজিপি নির্দেশনা দেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মহাসড়কে কোনো যানবাহন থামানো যাবে না এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নসিমন, করিমন, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান মহাসড়কে চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকালে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়।

এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা দ্রুত মোকাবিলায় বিভিন্ন স্থানে রেকার প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায় এবং যানজট না বাড়ে। সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠে নামানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

অন্যদিকে, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ প্রতিরোধে টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে।

তিনি নগরবাসীকে বাসা ছাড়ার আগে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করা এবং মূল্যবান জিনিস নিরাপদে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে থানায়ও মূল্যবান সামগ্রী রাখার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রতিদিন তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ি দিয়ে মোবাইল টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং রাতের বেলায় ৭০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমারদের তৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াত টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও মাউন্টেড পুলিশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলিশ যাত্রীদের সতর্ক করে বলেছে, যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিজের হেফাজতে রাখার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া ঈদের আগে ও পরে তিন দিন বিশেষ পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে বিঘ্ন না ঘটে।