শান্তির জনপদ সিলেট এখন অশান্ত। সাম্প্রতিক সময়ে নগরজুড়ে ছিনতাই, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে অপরাধ দমনে চলতি মাসের শুরু থেকেই ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। গত ১৬ দিনে মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৮৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসএমপি’র গত ১ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১৬ দিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে সর্বমোট ৮৩৮ জনকে আটক করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সিলেটে ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধসহ সবধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫৪ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসময়ে ৪৯ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাবদকসেবীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ১৪ পিস ইয়াবা, ৭১০ বোতল বিদেশি মদ, ৮৫ লিটার চোলাই মদ এবং ১ কেজি ৭৮০ গ্রাম গাঁজা।
এছাড়া একই সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৭ জন চোর এবং ডাকাতকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। অন্যান্যদের মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশসহ অন্যান্য আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়।
নগরবাসীর প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ ছিনতাই দমনে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। ১ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সিলেট মহানগরীতে ৫৪ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এর মাধ্যমে ছিনতাইকারী চক্রের অনেক সক্রিয় সদস্যকে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। গত ১৫ ও ১৬ এপ্রিলও এয়ারপোর্ট ও কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে ছিনতাইকারী ও ছিনতাইকারী সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
তাছাড়া, গত কয়েক দিনের অভিযানে বিশাল অংকের ভারতীয় পণ্য ও অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে এসএমপি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতীয় মহিষ, চা-পাতা, খাদ্যদ্রব্য ও কসমেটিকস এবং মাদক। এই ১৬ দিনে তারা ১৫০ কেজি জিরা, ২ হাজার ৪৮০ কেজি ফুচকা, ২ হাজার ৫২০ পিস চকলেট, ১৪টি মহিষ, ১০ হাজার ৪৪০ পিস চশমা, ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০ টাকার কসমেটিক্স সামগ্রী, ২৭টি শাড়ি এবং ৭৫ বস্তা চা পাতা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। অপরাধ দমনে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। কোনো নাগরিকের দেওয়া তথ্যে অপরাধী ধরা পড়লে তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং তার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
এসএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিলেটকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাগরিকরা যে কোনো অপরাধের তথ্য এসএমপি’র GenieA App, হটলাইন ০১৩৩৯-৯১১৭৪২ অথবা এডিসি (মিডিয়া) ০১৩২০-০৬৭০৩৮ নম্বরে জানাতে আহ্বান করা হয়েছে।
