https://www.emjanews.com/

15829

economics

প্রকাশিত

২১ মে ২০২৬ ১৯:১১

অর্থনীতি

নবম জাতীয় পে-স্কেল: নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের বেশি সুবিধা, বাড়ছে পেনশনও

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ ১৯:১১

ছবি: সংগৃহীত

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শুরু হওয়া বৈঠক দুপুরে শেষ হয়। তবে সভা শেষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন এবং সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম হারে সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

পে-স্কেল সংক্রান্ত কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের ওপর। এ কারণে নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনারও সুপারিশ থাকতে পারে।

পে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, সেটি নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সেই বিবেচনায় আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সচিবালয়ে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার (১৮ মে) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায়ের অবস্থাও দুর্বল। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে তিন অর্থবছরে বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনা চলছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি-র নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বাস্তবায়ন তিন ধাপে হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “কমিটির সুপারিশ ছিল। কিন্তু বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।”

পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।