ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মহোৎসবের দামামা বেজে গেছে, সাম্বার দেশে শুরু হয়ে গেছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। বুধবার তেরেসোপোলিসের সবুজ গালিচায় প্রথমবার অনুশীলনে নেমেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িল। কিন্তু প্রথম দিনেই সেলেসাও শিবিরে আনন্দের আবহে ধাক্কা দিল এক অস্বস্তি। দলের প্রাণভোমরা নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়র শিবিরে যোগ দিলেও প্রথম দিনের অনুশীলনে পা-ই রাখলেন না। আর তাতেই সেলেসাও ভক্তদের মনে নতুন করে দানা বাঁধছে তাঁর ডান পায়ের চোটের আশঙ্কা।
ব্রাজ়িল দলের বাকি ফুটবলারদের একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তেরেসোপোলিসের মূল শিবিরে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে সেখানে ছিলেন না দলের পোস্টার বয়। বরাবরের মতোই নিজের চেনা রাজকীয় মেজাজে, নিজস্ব বিলাসবহুল হেলিকপ্টারে চেপে একটু দেরিতে শিবিরে পা রাখেন নেইমার ।
কিন্তু মাঠে তাঁর আগমনী বার্তা যতটা জমকালো ছিল, ভেতরের ছবিটা ততটাই মলিন। দলের বাকি সতীর্থরা যখন বিশ্বকাপে ঝড় তোলার লক্ষ্যে বুট পায়ে অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছেন, তখন নেইমার কে দেখা গেল একেবারেই ভিন্ন ভূমিকায়। ট্র্যাকিং স্যুট পরে মাঠের একপাশে দলের প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমারের সঙ্গে গভীর আলোচনায় মগ্ন ছিলেন তিনি।
নেইমামের এই অনুশীলন না করার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর ডান পায়ের পেশির চোট। গত ১৭ মে স্যান্টোস বনাম কোরিতিবার মধ্যকার ম্যাচে শেষবার মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচেই পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। এরপর থেকে আর কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।
নেইমারের ডান পায়ের চোটের বর্তমান অবস্থা ঠিক কেমন, তা খতিয়ে দেখতে আজই বেশ কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না ম্যানেজমেন্ট।
বিশ্বকাপের ঠিক মুখে নেইমারের মতো মহাতারকার এই চোট ব্রাজ়িল শিবিরের রণপরিকল্পনায় বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। যদিও ফুটবলাররা আশাবাদী, এটি কেবলই সতর্কতা। তবে প্রথম দিনই তাঁর মাঠের বাইরে থাকা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি হলুদ-সবুজ সমর্থকদের মনে কিছুটা হলেও ভয়ের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, চিকিৎসকের রিপোর্টের পর কবে বল পায়ে মাঠের দখল নেন এই ব্রাজ়িলিয়ান জাদুকর।
