https://www.emjanews.com/

16531

surplus

প্রকাশিত

২০ জুন ২০২৬ ১৯:৫৫

অন্যান্য

ভিসার প্রলোভনে প্রতারণা, বিশ্বনাথে দুই সহোদরের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ ১৯:৫৫

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রবাসে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দুই সহোদরের বিরুদ্ধে। তাদের প্রতারণার শিকার হয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ২১টি পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে বিশ্বনাথের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা।

অভিযুক্তরা হলেন বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে আছকির আলী (৫৫) ও আজবর আলী (৪৬)। এর মধ্যে আছকির আলী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং আজবর আলী দেশে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আজিম খান অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিজ্ঞাপন দেখে তিনি সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় চাকরির আশায় চার কিস্তিতে পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত ভিসার পরিবর্তে তাকে তিন মাস মেয়াদি একটি ভিসার কপি দেওয়া হয়। পরে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ঢাকায় নিয়ে তার টাকা, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় মালামাল আটকে রেখে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের পর আরও ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে তারা ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে সমাধান না হওয়ায় গত ১৪ জুন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও অভিযোগ করেন, অনেককে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ ও বেতন না দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আবার কাউকে ঢাকায় আটকে রেখে অর্থ আদায় করা হয়েছে। তাদের দাবি, এভাবে অসহায় মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আছকির আলী। সৌদি আরব থেকে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আজিম খান কখনো মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় যাননি এবং নির্যাতনের অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি নেই। এছাড়া কাওছার নামে এক ভুক্তভোগী বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত আছেন এবং নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান জানান, ২১ জন ভুক্তভোগী ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগের পর বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে ডেকে তিনবার নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।