শিরোনাম
সিলেটকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পর্যটনমন্ত্রী শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রশাসনের দানবাক্স স্থাপন, ডেগ সিলগালা, ক্ষোভ ভক্তদের সিলেটে আওয়ামী লীগের ওপর কড়া নজরদারি সিলেটে একজনসহ প্রশাসন ক্যাডারের ১২ কর্মকর্তার বদলি সিলেটে হামে আরও দুই শিশুর মৃ.ত্যু, প্রাণহা.নি বেড়ে ৭৬ বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে যুক্ত হচ্ছে বিদেশি অপারেটর সরকারি চাকরিজীবীদের আরও সুবিধা বাড়লো সি‌লে‌টের গোয়াইনঘাটে নদীপথে চাঁদাবাজি: আটক ১, নৌকা ও নগদ টাকা জব্দ সিলেটের সীমান্তে নিখোঁজ যুবককে ঘিরে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা মেঘালয় সীমান্তঘেঁষে সিলেটে নির্মিত হচ্ছে ‘ড্রিম ট্যুরিস্ট রুট’

https://www.emjanews.com/

16511

sylhet

প্রকাশিত

১৯ জুন ২০২৬ ২১:১৫

সিলেট

সিলেটকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: পর্যটনমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ ২১:১৫

ছবি: সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি বলেছেন, সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সিলেটের পর্যটন খাত ও বিমানবন্দর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ট্যুরিজম উন্নয়নের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করছি, যার অন্যতম অগ্রাধিকার সিলেট। আমরা চাই সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে। পর্যটন অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট সকল সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করা হবে।’

তিনি জানান, সিলেটের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের অন্যান্য বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বৈচিত্র্য। ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভিন্নতা দেশকে বিভক্ত না করে বরং আরও সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল শুধু দেশের চায়ের রাজধানীই নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অঞ্চল। এখানে ও আশপাশে প্রায় ২৬টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’ শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অনন্য মিলনমেলা। এবারের উৎসবে ২৯টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য উপস্থাপনা।

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, সরকার কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম এবং টেকসই পর্যটন বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে পর্যটনের সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, হারমনি ফেস্টিভ্যাল দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যকে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরবে এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনধারা, শিল্পকলা ও লোকসংগীত বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সরকার এ সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও পর্যটন বিকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কাজ করছে এবং দেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি তা পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলো শুধু ঐতিহ্য রক্ষাই নয়, পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বলেন, সরকার পর্যটন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে এবং বাংলাদেশ পর্যটন খাতে একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় দেশে পরিণত হবে।

তিনি পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মোল্লা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শেষে মন্ত্রী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।