শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রবেশপত্র ছাড়াই পরীক্ষায় বসলেন ৯ শিক্ষার্থী
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ ২০:৫১
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল গার্লস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাননি। ফলে চলতি বছরের প্রথম দিনে তারা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। পরে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের হস্তক্ষেপে ৮ জন নিয়মিত ও ১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
জানা যায়, কলেজের এইচএসসি মানবিক বিভাগের ৯জন শিক্ষার্থী সবার মতো ফরম পূরণ করেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে একাধিকবার শিক্ষার্থীরা এডমিট কার্ডের জন্য রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারেনি। কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড সরবরাহ করতে আজ-কাল তারিখ করেও পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দিতে পারেনি। সর্বশেষ গতকালও এসব শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গেলে জানতে পারেন, তাদের এডমিট কার্ড আসেনি। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীরা হলেন, কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া এবং শ্রাবন্তী শীল। এর মধ্যে সুমাইয়া আক্তার নামে অনিয়মিত এক শিক্ষার্থীরও এডমিট কার্ড আসেনি।
পরীক্ষার দিন সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়া পৌঁছালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রথমে তাদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রনেতা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। বোর্ডের অনুমোদনের ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরীক্ষায় বসতে পেরেছেন। পরে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হলেও এতে ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে ওঠেনি।
পরীক্ষার্থী তানিয়া অক্তার বলেন, ‘পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের টাকা আমরা গত রমজান মাসেই কলেজে জমা দিয়েছি। বাবরবার কলেজে যোগাযোগ করার পর এখন পর্যন্ত এডমিট কার্ড পাইনি। পরীক্ষা শুরুর দেড় ঘন্টা পর ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে আমরা সবাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি।’
শ্রাবন্তী শীল বলেন, ‘এডমিট কার্ড না পাওয়ায় আমরা সাড়ে ১১টায় পরীক্ষায় অংশ নেই। কিন্তু আমাদের মাত্র ২০ মিনিটি সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সময়ের অভাবে আমরা লিখতে পারিনি। আমরা পরীক্ষায় ফেইল করলে এর দায়ভার কে নেবে?’
দীপা কাহার বলেন, ‘কয়েক মাস আগে আমরা কলেজে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দেই। এডমিট কার্ডের জন্য কলেজে কয়েকদিন গিয়েছি। শুধু তারিখ করা হয়েছিল আজ-কাল, সকাল-বিকেলে দেয়া হবে। সর্বশেষ বলা হয় পরীক্ষার দিন ৮টায় দেয়া হবে। কিন্তু পরীক্ষার দিনও আমরা পাইনি। এঘটনায় আমরা শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত এবং আমরা মানসিকভাবে প্রচন্ড বিপর্যস্ত।’
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অভিযুক্ত অনিক দেব এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল গার্লস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল জানান, ৯ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ইস্যু না হওয়ার বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। পরে জানতে পারেন, শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার অপারেটরের কাছে ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েছিল। ইউএনও ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সহযোগিতায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দায় প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এ দায় কম্পিউটার অপারেটরের। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তারও দায় রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে ৯শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ৯ শিক্ষার্থী, তাদের পরিবার ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
