নতুন ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে: সিসিক প্রশাসক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ ২১:১০
ছবি: সিসিক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নতুন ১৫টি ওয়ার্ডে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সড়ক, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানি, স্ট্রিট লাইটসহ মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নগরীর ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কুশিঘাট এলাকার দক্ষিণ কুশিঘাট উদয়ন সমাজকল্যাণ সংঘ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নতুন ওয়ার্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে নগরের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এসব এলাকার সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও সড়ক সংকট, আবার কোথাও ড্রেনেজ ও স্ট্রিট লাইটের অভাব রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন ১৫টি ওয়ার্ড থেকে সিটি কর্পোরেশন কোনো হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করছে না। কারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত না করে কর আদায়কে তিনি সমীচীন মনে করেন না। পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরই নিয়ম অনুযায়ী কর কার্যক্রম শুরু হবে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, সম্প্রসারিত এলাকাগুলোর জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় সড়ক প্রশস্তকরণ, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা, স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কুশিঘাট এলাকার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। ভারী বৃষ্টিতে পানি জমে মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে এলাকার মসজিদের উন্নয়নসহ স্থানীয় বিভিন্ন অবকাঠামোগত দাবিও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে জনগণের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নগরবাসীর অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
এর আগে দক্ষিণ কুশিঘাট জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক।
দক্ষিণ কুশিঘাট উদয়ন সমাজকল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক বিলাল উদ্দিন দীপুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ কুশিঘাট জামে মসজিদের মোতায়াল্লি বদরুল ইসলাম আলাই।
এসময় বক্তব্য দেন, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোর্শেদ আহমদ মুকুল, সংঘের সভাপতি রাসেল আহমদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কর্মসূচি শেষে সিসিক প্রশাসক ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালপুর মনসুরিয়া জামে মসজিদ ও ঈদগাহ পরিদর্শন করেন এবং সংস্কারে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সন্ধ্যায় নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নরসিংটিলা এলাকায় নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
