https://www.emjanews.com/

18904

surplus

প্রকাশিত

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪৩

অন্যান্য

কুলাউড়ায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪৩

সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা পর্যায়ে কলেজ স্তরে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলা পর্যায়ের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় দেশের উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হচ্ছে। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি এবং তাঁদের আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ২০০১ সালে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হন। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চন্দনা এলাকার প্রয়াত ডাঃ নুরুল ইসলামের তৃতীয় পুত্র। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়া মাজহারুল ইসলাম দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা। ১৯৭৭ সালে চুনারুঘাটের দক্ষিণাচরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ‘ফেরিওয়ালা’ নাটকে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ঢাকার বিভিন্ন মঞ্চে নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৪ সালে চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা। ১৯৮৫ সাল থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য তহবিল গঠন ও ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে রেড ক্রিসেন্টের কার্যক্রমে যুক্ত হন এবং ১৯৮৯ সালে জাতীয় স্কাউট জাম্বুরিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রক্তদান কার্যক্রমেও অংশ নেন।

১৯৮৬ সালে সবুজসেনা ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে পদক্ষেপ গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে পাঠাগারটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত। ২০১৫ সালে কুলাউড়ার রবিরবাজারে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা (প্রসেস) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। ২০২১ সালে চুনারুঘাটে ‘কবিতাকণ্ঠ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন।

এ ছাড়া ২০০৪ ও ২০২৪ সালে কুলাউড়ার মনু নদে বাঁধ নির্মাণে অংশ নেন তিনি। ২০২৪ সালে তহবিল সংগ্রহ করে একটি দরিদ্র পরিবারকে একটি অটোরিকশা উপহার দেন। বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির বিভিন্ন সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক তাঁর একাধিক প্রবন্ধ বিভিন্ন জার্নাল, দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১০ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নে ইতিহাস বিষয়ে সুপারিশমূলক প্রবন্ধও রচনা করেন তিনি।

‘কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক-২০২৬’ নির্বাচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভবিষ্যতেও আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে চান।

লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজমুল হোসেন বলেন, ‘মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম কলেজে যোগদানের পর থেকে পাঠদান উন্নয়নে বিভিন্ন সৃজনশীল পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। গুণী শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি তাঁর প্রাপ্য। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও কলেজের বাইরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃতি রয়েছে। তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় কলেজ পরিবার গর্বিত।’

কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা পর্যায়ে কলেজ স্তরে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হয়েছেন লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। মাধ্যমিক স্তরে নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সেলিম আহমদ এবং প্রাথমিক স্তরে মো. মুর্শেদ আহমদ, শিউলি আচার্য ও সুহানা আক্তার চৌধুরী শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। মাদ্রাসা স্তরে উপযুক্ত কোনো শিক্ষক পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষকরা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।