ছবি: সংগৃহীত
ড় লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়ের রেকর্ড গড়েছে ক্যারিবীয়রা। রাঁচিতে ২৫০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে সফরকারীরা।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ভারত। জবাবে হোপের অপরাজিত ১০২ ও রাদারফোর্ডের ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার ঘটনা। এর আগে সর্বোচ্চ ২৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রতিপক্ষ ছিল এই ওয়েস্ট ইন্ডিজই। এদিকে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২২৩ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির ছিল না কোনো দলের। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে দিল ক্যারিবীয়রা।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। প্রথম ওভারে একটি ছক্কা এবং পরের ওভারে দুটি চার মারলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১২ বলে ২০ রান করে বিদায় নেন অভিষেক।
অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসন খেলেছেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। দুইবার জীবন পেয়ে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ৪১ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৮২ রান। মাত্র ২১ বলেই পূর্ণ করেন নিজের অর্ধশতক।
স্যামসনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন ইশান কিষাণ। ২২ বলে ৪৩ রান করে ইশান ফিরলে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে ভারতের ইনিংসে। পরে শিভাম দুবে ৭ রান করে বিদায় নেন। স্যামসনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
তবে দ্রুত তিন উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ভারতকে বড় সংগ্রহ এনে দেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা। পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৩৩ বলে ৮৩ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন তারা।
আইয়ার ১৮ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ রান করেন। একই সংখ্যক বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় তিলক করেন ৪৪ রান। তাদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রোস্টন চেজ। ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি।
২৫০ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট হারানোর পর পাওয়ার প্লের মধ্যেই আরও একটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। তবে শুরুতে ধাক্কা খেলেও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি তারা।
চতুর্থ উইকেটে শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবীয়রা। মাত্র ৫৪ বলে ১২০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন তারা।
রাদারফোর্ড ছিলেন আরও আগ্রাসী। মাত্র ৩৭ বলে ৭টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে বিদায় নেন তিনি। তবে ততক্ষণে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
এরপর রোমারিও শেফার্ডকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর চড়াও হন হোপ। এই জুটিতে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। ফলে ভারতের জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় অপরাজিত ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন হোপ। ১৩ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৪ রান করে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন শেফার্ড।
অসাধারণ ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন হোপ। ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সঙ্গে রেকর্ড গড়া রান তাড়ার মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্যেরও জানান দিল ক্যারিবীয়রা।
