নতুন পে স্কেল পেতে দেরি হতে পারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাবের জটিলতায় বিলম্বের আশঙ্কা, নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরিশোধের চেষ্টা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২২:২৭
ছবি: সংগৃহীত
নবম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা আগামী মাস থেকে নতুন বেতন পাবেন বলে জানানো হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হতে আরও সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাবের প্রক্রিয়ায় জটিলতার কারণে এ বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হিসাব এখনো হাতে-কলমে করা হয়। অন্যদিকে স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব করা হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। হিসাব প্রক্রিয়ার এই পার্থক্যই নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরে বিলম্বের অন্যতম কারণ হতে পারে।
তবে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন না থাকলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে বেতন পেতে দেরি হবে কেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পেতে কিছুটা সময় লাগবে। আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব না-ও হতে পারে।
মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে শুধু স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নতুন পে স্কেলে বেতন দেওয়া সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, সেটি সম্ভব নয়। দুটি আলাদা বিভাগ হলেও মন্ত্রণালয় একই। তাই সবাই একসঙ্গেই নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।
বর্তমানে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় বেশি, সেগুলো সরকারি এমপিওর অর্থের বাইরে থেকেও শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে পারে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সেই আর্থিক সক্ষমতা নেই।
এ কারণে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বেতন-ভাতায় পরিবর্তন আসা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এখন তাঁদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য।
