জেলা প্রশাসকের প্রেসরিলিজ: ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার
শিক্ষার্থীরা রবিবার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরবে
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০০:১৫
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের চলমান অস্থিরতা নিরসনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং কলেজটিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের অধীনে স্থানান্তরের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কলেজে একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় মন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের চলমান আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আগামী রবিবার থেকে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে তাদের দাবি পূরণসহ কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলণ প্রত্যাহার করেনি। তারও আগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সিসিক প্রকাশক কয়েকদফা সমঝোতা বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা মানেন নি। তবে এবার তার আন্দোলন প্রত্যাহারে রাজী হয়েছেন বলে জেলা প্রশাসকরে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলোর প্রতি সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদার প্রতি সর্বদা সংবেদনশীল।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া কলেজের দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট নিরসন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের অধীনে স্থানান্তরের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে খেলাধুলার উপযোগী মাঠ নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করে দেওয়ার কথা জানান।
সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সিলেটের পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, বিপিএম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সদ্য যোগদানকৃত অধ্যক্ষ ড. মোঃ সাহিদ ইকবালসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
উল্লেথ্য, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে ৩ সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনে ১৪ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্নাতক পর্যায়ের এ প্রকৌশল কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ, পুরকৌশল বিভাগ এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী আছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চতর ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকতে চান না। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তি। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকার ঘোষণা দেন।
আন্দোলন চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কর্তব্যরত সহযোগী অধাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে পদায়ন করা হয়। এরও বিরোধীতা করছিলেন শিক্ষার্থীরা।
