শিরোনাম
বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় তাপমাত্রা কমার আভাস সিলেটে যানজট কমাতে চা-বাগানের ভেতর দিয়ে নতুন সড়কের পরিকল্পনা নারীর সঙ্গে জামায়াত নেতার ভিডিও ভাইরাল, দল থেকে অব্যাহতি ফিরছে গ্রাম সরকার, ত্যাগীদের মূল্যায়নের ভাবনা বিএনপির ৫৭৩ কোটি টাকার কুশিয়ারা ডাইক, তবু নদীভাঙনে বিলীন ফসলি জমি ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট বুধবার চালুর সম্ভাবনা সিলেটে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত সিলেটের উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী রমজানে বাড়তি চাহিদা কাটিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখতে যে পরিকল্পনা বাণিজ্যমন্ত্রীর

https://www.emjanews.com/

20029

national

প্রকাশিত

২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২২:১৫

জাতীয়

অনুমোদন না থাকায় মাসুদ সাঈদীর রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২২:১৫

ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের মধ্যে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ পদক্ষেপ নেয়।

নির্মাণকাজ বন্ধের পর প্রকল্প এলাকায় নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

মাস্টারপ্ল্যানে রেলওয়ের জন্য বরাদ্দ জমি

কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিজুড়ে ইস্তানবুল প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। প্রকল্প এলাকায় একটি মসজিদ ও কনভেনশন হল নির্মাণের কাজও চলমান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চলতি বছর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে ওই জমি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন।

অনুমোদনের আবেদন ও রাজনৈতিক খেলার অভিযোগ

তবে ইস্তানবুলের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লী দাবি করেছেন, প্রকল্পটির জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়েও আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভা থেকেও অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মনির মুসুল্লী বলেন, ‘এটি একটি বড় প্রকল্প। সবকিছু মিলিয়ে এখন আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এখানে বড় রাজনৈতিক খেলা রয়েছে।’

জমির মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের দাবি

ইস্তানবুল হোটেলের জন্য বায়না করা জমির উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা দাবি করে পটুয়াখালীর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেছেন স্থানীয় চার বাসিন্দা কাজলী বেগম, নাজমুন নাহার, মো. আসলাম ও মো. লিটন মিয়া। মামলা চলমান থাকায় জমি বিক্রির ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত দিয়েছে রেজিস্ট্রি অফিস।

এ ছাড়া কুয়াকাটার বালিয়াতলীর হাড়িপাড়া রাখাইন পল্লির বাসিন্দারাও ওই জমির মালিকানা দাবি করেছেন। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রাখাইন পল্লির বাসিন্দা বোচান দাবি করেন, ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির মালিক রাখাইন সম্প্রদায়। তাঁর অভিযোগ, সিএস, আরএস ও এসএ জরিপে তাঁদের পূর্বপুরুষদের নামে জমির রেকর্ড থাকলেও প্রভাবশালীরা সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছেন।

তবে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

কোম্পানির চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী

কোম্পানি নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

২০ হাজার শেয়ারের কোম্পানিটিতে মাসুদ সাঈদী ছাড়াও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিএম এমদাদুল হক এবং পরিচালক মো. আবু তৈয়ব ও হাফিজুর রহমানের মালিকানা রয়েছে। চারজনের প্রত্যেকের নামে পাঁচ হাজার করে শেয়ার রয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেকের মালিকানার পরিমাণ ২৫ শতাংশ।

এর আগে ‘মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ কোটি টাকা গেল কোথায়’ এবং ‘৬ বিঘার অনুমোদন নিয়ে ৩০ বিঘার শেয়ার বিক্রি করছে মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেল’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। এরপর প্রকল্পটির অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে প্রশাসন কাজ শুরু করে।

এখন নির্মাণকাজ বন্ধের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন, জমির মালিকানা ও ভূমি ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হলো।