https://www.emjanews.com/

11313

sylhet

প্রকাশিত

১১ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৫৭

আপডেট

১১ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৪৬

সিলেট

সিলেট-৩ আসনেও বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের অনুসারীদের মধ্যে হতাশা

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৫৭

ছবি: ইমজা নিউজ

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা–ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির ঘোষিত মনোনয়নকে ঘিরে স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও দলের বিএনপি’র কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম অনুসারীরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তাঁদের অভিযোগ, ঘোষিত প্রার্থী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং স্থানীয় রাজনীতি কিংবা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না। ফলে তাঁর নেতৃত্বে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।
বিএনপির ঘোষিত ২৩৭টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সিলেটেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আসনে দলের জেলা সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামালের অনুসারীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণসংযোগে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় কর্মীরা মনে করছেন, রাজপথে যারা দমন-পীড়নের মুখে থেকেও দলের পতাকা ধরে রেখেছেন, তাঁদের উপেক্ষা করা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ‘জননেতা আব্দুল কাইয়ুম সমর্থক’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে তাঁরা ইতোমধ্যে মনোনীত প্রার্থীর বিরোধিতা করে ‘প্রার্থী রিভিউ’র দাবি তুলেছেন।

সিলেট-৩ বিএনপির অন্যতম আন্দোলনভিত্তিক আসন হিসেবে পরিচিত। ঢাকা–সিলেট ও সিলেট–মৌলভীবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই আসনের মধ্যেই পড়েছে। অতীতে এখানে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে ত্যাগী কর্মীরা অবরোধ, হরতাল ও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে তার অনুসারীদের প্রত্যাশা তিনিই পাবেন মনোনয়ন। তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বন্যা-খরায় কিংবা আন্দোলনের সময় যিনি জনগণের পাশে ছিলেন না, তাঁকে কীভাবে প্রতিনিধি করা যায়?’

ব্যারিস্টার আব্দুস সালামের অনুসারীদের প্রত্যাশা , তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনের জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে আসছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর পরিচিতি থাকায় তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে তারা আশা করেছিলেন। 

তবে দলীয় ও স্থানীয় রাজনীতির পরিসরে সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে মাঠে ছিলেন না এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে চলতেন। বিষয়টি নিয়ে এম এ মালিক অতীতে কটাক্ষও করেছেন। তিনি সবসময়ই বলতেন, ‘যার বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলা নেই, তাকে যেন মনোনয়ন দেওয়া না হয়।’

তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাঠের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তাঁদের মতে, ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নই দলের ঐক্য ও সাফল্যের মূল ভিত্তি। একইভাবে ব্যারিস্টার আব্দুস সালামের সমর্থকরাও মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোনীত প্রার্থী এম এ মালেককে নিয়ে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই বিষয় নিয়েও অনেকে সমালোচনা করছেন এবং বিভিন্ন ট্রল শেয়ার করছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, ‘এই রুচির একজন মানুষ এমপি হলে তা হবে এলাকাবাসীর জন্য লজ্জার।’

গত ৩ নভেম্বর বিএনপি দেশের ২৩৭টি আসনে মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। সিলেট-৩ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালেককে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ খান জামাল।

প্রার্থী ঘোষণার পর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কোনো প্রকাশ্য দ্বিমত করেননি। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিক সিলেট ফিরেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাড়িতে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। একসঙ্গে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন দেশ ও দলের স্বার্থে স্থানীয় বিএনপিকে সাথে নিয়েই তিনি বিজয় ছিনিয়ে আনবেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল ইমজা নিউজকে বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এই দলে স্বাভাবিকভাবেই মতামত ও প্রতিযোগিতা থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি এবং বিভিন্ন সময় মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। দলের প্রতি আমার এই ত্যাগ ও নিবেদন থেকেই আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে আমাদের দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন-দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা সবাই যেন তাঁর পাশে থাকি। দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতি আমি সম্পূর্ণ আনুগত্যশীল। এম এ মালিক ভাইও দলের জন্য দীর্ঘদিন পরিশ্রম করেছেন, তিনি একজন ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি এবং আমার সকল কর্মী-সমর্থক এম এ মালিক ভাইয়ের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দলের প্রার্থীর বিজয়ের জন্য কাজ করছি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘মনোনয়ন রিভিউ নিয়ে আমি কিছু জানি না। সমর্থকরা তাঁদের মত দিতে পারেন, তবে আমরা নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।’ 
তবে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরে যেমন হতাশা ও ক্ষোভ রয়েছে, তেমনি এম এ মালেক মনোনয়ন পাওয়ায় তাঁর সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস। তাঁরা মালেকের নেতৃত্বে স্থানীয় উন্নয়ন ও দলের পুনর্গঠন নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম বলেন, আমার দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দলীয়নশৃঙ্খলা ভঙ্গের কোন নজির নেই।  দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমার বিশ্বাস ও আস্থা অবিচল। তাই আমার নেতা জনাব তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমার সিদ্ধান্ত। 
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমি মাঠে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে জনাব তারেক রহমান ঘোষিত সর্বশেষ দলীয় কর্মসূচী ৩১ দফার বার্তা সিলেট ৩ আসনের সর্বস্তরের মানুষের নিকট পৌঁছে দিয়েছি। সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে ধানের শীষের বিজয়কে নিশ্চিতের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছি। এমন সময়ে দল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখন রিভিউয়ের দাবি তুলেছে আমাদের মাঠের কর্মীরা। এ বিষয়ে আমার নিজস্ব কোন বক্তব্য নেই।