ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিবেন: চাকসু মামুন
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)।
তিনি বলেন, ‘কোনো জালিয়াতি, ভোটচোর, অবৈধ ইঞ্জিনিয়ারিং যেন জনগণের ভাগ্য নিয়ে খেলতে না পারে, তা রুখে দিতে হবে। এখন থেকে পাহারাদারি শুরু করতে হবে। বিজয়ের ফলাফল নিশ্চিত করে আপনারা ঘরে ফিরবেন।’
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাদ আসর কানাইঘাট উপজেলা সদরে ফুটবল মার্কার সমর্থনে শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
এরপর কালীগঞ্জ বাজারে ফুটবল মার্কার সমর্থনে আরেকটি জনসভা করেন।
চাকসু মামুন আরও বলেন, ‘কোন মূল্যে আমরা নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ, শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখব। কোন চক্রান্তে পা দিবেন না। জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে আলাদা একটা সৌহার্দপূর্ণ সম্প্রতি আছে। এখানে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রীষ্টান সকল ধর্মের মানুষ আমরা একসাথে বসবাস করে আসছি। সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সহাবস্থান এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমার- আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪৫ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর দিন দল থেকে আমাকে বহিষ্কার করা হয়। এখানেই ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি, যাদেরেকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি, এরাই আজ আমাকে ধ্বংস করতে নির্লজ্জভাবে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে। আমার অপরাধ জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বিশেষ করে, ঐই অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষনে, পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যময় করতে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ- কালভার্ট, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের চেষ্টা করব।’
চাকসু মামুন বলেন, ‘কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ফুটবলের বিজয় ঠেকাতে পারবে না , নির্বাচনের মাঠে ফুটবলের গণজোয়ারে ঈর্ষান্বিত প্রতিপক্ষরা জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই অঞ্চলের মানুষ যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এবং ভোট উৎসবের চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন একটি বিশেষ মহল নির্বাচন বানচালের জন্য নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘জনমতকে উপেক্ষা করে কোনো ধরনের নীল নকশা এই অঞ্চলের মানুষ মেনে নেবে না।’
চাকসু মামুন আরও বলেন, ‘সবার সহযোগিতা নিয়ে উন্নয়ন, শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটকে দেশের মডেল এলাকা হিসেবে করত চাই। দীর্ঘ দিন ধরে এই অঞ্চলে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদী ভাঙ্গন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সহ প্রত্যেকটি সেক্টরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আপনাাদের সমর্থন ও সহযোগিতা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই অঞ্চলের জনগণ আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে। আপনারা পাশে থাকলে আমার জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। কারণ জনগণের রায়ের চেয়ে বড়ো কোনো শক্তি নেই। আমি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই।’
কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল লতিফের ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খসরুজ্জামান পারভেজ ও কোষাধ্যক্ষ আবুল বাশারের যৌথ পরিচালনায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য দেন- চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক ফয়জুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. আবু শহিদ শিকদার, আবদুল মালিক চৌধুরী চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা ইসমাঈল হোসেন সেলিম, মাসুক আহমদ, হাসান আহমদ, আব্দুস শাকুর, রিপন আহমদ, কাউন্সিলর শামীম আহমদ, ওয়েছ আহমদ, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন সাদিক, বিএনপির ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক রহুল আমিন, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আসাদ আলী, জাপা নেতা মর্তুজা আহমদ চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা আল ইসলাহ নেতা কবির আহমদ, আতিক আহমদ প্রমুখ।
