রোজায় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান: সিসিকের মতবিনিময় সভা
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র রমজান মাসে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
পবিত্র রজমান মাস উপলক্ষ্যে দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নিমিত্তে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নগরভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
নির্বিঘ্নে সিয়াম সাধনা করতে সভায় মাংসের মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, সিলেট নগরবাসী যাতে নির্বিঘ্নে সিয়াম সাধনা করতে পারেন তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে। রমজানে নগরবাসী যাতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয় করতে পারেন বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন সেজন্য রমজানে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করতে হবে।
তিনি বলেন, পবিত্র রমজান ত্যাগ ও সংযমের মাস। পবিত্র রমজানের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য যাতে বজায় থাকে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং, রাস্তা ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী রাখা, নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বিশেষ করে সেহরী, ইফতার ও তারাবীহর সময়ে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় রমজান মাসে গরুর মাংস প্রতিকেজি ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা, ছাগল ও ভেড়ার মাংস ১০০০ টাকা, সোনালী মুরগী ৩১০ টাকা এবং পোল্ট্রি মুরগী প্রতি কেজি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সভায় দোকান ও মার্কেটগুলোতে দ্রব্যমূল্যের তালিকা স্থাপন, ভেজালমুক্ত খাবার বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। পণ্যে ভেজাল রোধে রমজান মাসে নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, দিনের বেলা রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা এবং পর্দা দিয়ে আড়াল করে হিন্দু রেস্টুরেন্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। মাহে রমজানের পবিত্রতা বজার রাখার স্বার্থে সিনেমার পোস্টার লাগানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়।
রমজানে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সর্বদা তৎপর থাকবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সেহরী ও ইফতারের সময়সূচি সম্বলিত ক্যালেন্ডার প্রকাশ করবেন। সেহরীর পূর্বে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সাইরেন বাজাবেন। পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে। দ্রুত পরিষ্কার করা হবে নগরীর ময়লা আবর্জনা।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল মোহাম্মদ একলিম আবদীন এর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ মাসুদ রানা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম আব্দুল ওয়াদুদ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক জুলিয়া যেসমিন মিলি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আহ এমরান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেট সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহম্মেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আফজারুল ইসলাম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ তারেক, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফেরদৌস আলম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপসহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, বিভাগীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্যোশাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার মাসউদ রশীদ প্রমুখ।
