ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে চালু করা ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপের পরিধি বাড়িয়ে এবার ব্যক্তিগত গাড়িকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে প্রাথমিকভাবে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ সিরিজের ব্যক্তিগত কার এই সেবায় নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। খুব শিগগিরই ঢাকার সব ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িতেও ‘ফুয়েল পাশ’ ব্যবহার করে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপ ডাউনলোড করে অথবা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। আইফোন বা আইওএস ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনা, নজরদারি বাড়ানো এবং বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর উদ্যোগে তৈরি এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর জন্য একটি ইউনিক কিউআর কোড তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনে সেই কোড স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া হয়।
প্রথম ধাপে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু করা হয়। তখন শুধু ‘হ’ ও ‘ল’ সিরিজের মোটরসাইকেল নিবন্ধনের সুযোগ পায়।
এরপর ১৮ এপ্রিল ঢাকার আরও ১৮টি পেট্রোল পাম্পে পাইলট কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০ এপ্রিল আরও ১৯ জেলায় নিবন্ধন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রির কারণে অনেক জায়গায় দীর্ঘ লাইন, যানজট এবং একই ব্যক্তি বা যানবাহনের একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। ‘ফুয়েল পাশ’ চালুর ফলে এসব সমস্যা কমবে এবং পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া ডিজিটাল রেকর্ডে আসবে। এতে কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক নজরদারিও সম্ভব হবে।
ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাশ’ পেতে অনলাইনে নিবন্ধনের সময় যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করতে হয়। পাশাপাশি চেসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং যানবাহনের উৎপাদনের বছর দিতে হয়।
