https://www.emjanews.com/

15508

sylhet

প্রকাশিত

০৮ মে ২০২৬ ১৫:৪০

সিলেট

দেশের স্বার্থ পরিপন্থি ধারা থাকলে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বন্ধ থাকা মিল কারখানা বেসরকারী খাতে দিয়ে চালু করতে চায় সরকার

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ ১৫:৪০

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিষয় নয়, বরং এটি দুটি রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিষয়। কোনো রাষ্ট্র যখন চুক্তি করে, তখন তা ইচ্ছাধীন পরিবর্তন সম্ভব না হলেও চুক্তির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যদি এমন কোনো ধারা পরিলক্ষিত হয় যা দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়, তবে তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই বিদ্যমান থাকে।
শুক্রবার সকালে সিলেটের বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, চুক্তির মধ্যে বিভিন্ন ধারা থাকে যা উভয় পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। কোনো ধারা একটি পক্ষের অনুকূলে যায়, আবার কোনোটি অন্য পক্ষের। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি 'উইন-উইন সিচুয়েশন' বা পারস্পরিক লাভজনক অবস্থান বজায় রেখেই চুক্তি সম্পন্ন হয়।

মূল্যস্ফীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ: সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম খুবই সামান্য বেড়েছে। এর ফলে পণ্যমূল্যে যে প্রভাব পড়েছে তা মূলত একটি সাময়িক উল্লম্ফন । তাই মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত চক্রাকারে বাড়বে না  এবং তা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চপর্যায়ে স্থবিরও  হবে না।
বাজার কারসাজি নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ডিজেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তার দোহাই দিয়ে অহেতুক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১০ হাজার ডিম পরিবহনে জ্বালানি খরচ যেটুকু বাড়ে, তার বিপরীতে যদি প্রতি ডিমে এক টাকা করেও বাড়ানো হয়, তবে তা হবে অযৌক্তিক। এই সুযোগ নিয়ে কেউ বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সরকারি কলকারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়।" সরকারি ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের মুখে পড়লে জনগণের অর্থের অপচয় হয়। তাই সরকার লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে, যাতে সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পায়।

সিলেটের পর্যটন খাতের উন্নয়নে বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গায় একটি আধুনিক 'ন্যাচারাল পার্ক' নির্মাণের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি অর্থায়নে এখানে ক্যাবল কার, রোপ ব্রিজসহ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনের জন্য আধুনিক সব ব্যবস্থা থাকবে। জেলা পরিষদের এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে এটি সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী , সাধারন সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরী, প্রকল্পটির স্থপতি রাজন দাশ সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।