ক্যান্সারসহ ছয় ধরনের গুরুতর রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর, যার আওতায় সিলেটসহ দেশের ৫৩ জেলার রোগীরা এই সুবিধা পাবেন।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মোট ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত এই বরাদ্দ দেশের ৪ হাজার ১০৭ জন উপকারভোগীর মধ্যে বিতরণ করা হবে। সম্প্রতি চিকিৎসা সহায়তা শাখা থেকে জারি করা এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়, যেখানে স্বাক্ষর করেন মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সোনালী ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। মোট বরাদ্দের মধ্যে অধিদপ্তরের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর সংরক্ষিত বাজেটের অব্যয়িত অর্থ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা যুক্ত করা হয়েছে।
এই সহায়তা ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত। বরাদ্দ পাওয়া জেলার তালিকায় সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জেলাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর জেলায় সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর পেয়েছে ১ কোটি টাকা, নরসিংদী ৮০ লাখ, রংপুর ৭০ লাখ, পাবনা ৬০ লাখ এবং বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ পেয়েছে ৫০ লাখ টাকা করে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৯ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকে দায় বহন করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
একই সঙ্গে ৩০ জুনের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ব্যয়বহুল চিকিৎসায় অক্ষম দরিদ্র রোগীদের সহায়তা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, এবং অতিরিক্ত এই বরাদ্দের ফলে অনেক রোগী চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
