https://www.emjanews.com/

16491

tourism

প্রকাশিত

১৮ জুন ২০২৬ ২০:০৩

আপডেট

১৮ জুন ২০২৬ ২২:১৯

পর্যটন

মেঘালয় সীমান্তঘেঁষে সিলেটে নির্মিত হচ্ছে ‘ড্রিম ট্যুরিস্ট রুট’

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ ২০:০৩

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটকদের ভোগান্তি ও যাতায়াত ব্যয় কমাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। সিলেটের জনপ্রিয় তিন পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলংকে একই সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা পাহাড়, নদী, চা-বাগান ও পাথুরে জলধারার পাশ দিয়ে গড়ে উঠবে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ড্রিম ট্যুরিস্ট রুট।

বর্তমানে সাদাপাথর থেকে জাফলং যেতে হলে পর্যটকদের সিলেট শহর হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটিই বেড়ে যায়। নতুন সড়ক নির্মাণ শেষ হলে সিলেট শহরে না গিয়েই সরাসরি সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলং ভ্রমণ করা সম্ভব হবে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ও বিছনাকান্দির মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। এছাড়া রাধানগর থেকে জাফলং পর্যন্ত আরও ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো রুটে চারটি সেতুও নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, ‘আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এই সড়কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে এর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ভারতীয় মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা পুরো পথজুড়ে থাকবে পাহাড়ের সারি, পিয়াইন ও ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলধারা এবং সবুজে ঘেরা গ্রামীণ জনপদ। পথের বিভিন্ন অংশ থেকে দেখা যাবে সাদাপাথরের সাদা পাথরে মোড়া নদী, বিছনাকান্দির পাথুরে জলপ্রবাহ এবং জাফলংয়ের ডাউকি নদীর নয়নাভিরাম দৃশ্য।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঝরনা ও মেঘের আনাগোনায় এই সড়কটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন রুটে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারাও প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী গ্রামীণ জনপদের চিত্র বদলে যাবে। পর্যটনের পাশাপাশি যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য সহজ, দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে।