ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি কাজ করছে।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।
লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতটি মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্যও সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, ফ্যাসিস্ট শাসনামলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ মার্চ ২০২৬ রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠন করে।
এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন, এজাহার, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চার্জশিটের সত্যায়িত অনুলিপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে। যদি দেখা যায় যে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে মামলাটি চালানোর প্রয়োজন নেই এবং তা অব্যাহত রাখলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, তাহলে কমিটি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে।
আইনমন্ত্রী জানান, জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ৮ মার্চ ২০২৬ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা ২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবশিষ্ট মামলাগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত মনে হলে সেগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
