https://www.emjanews.com/

16808

surplus

প্রকাশিত

০১ জুলাই ২০২৬ ২০:৩০

অন্যান্য

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের আবেদনে নতুন নিয়ম

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ ২০:৩০

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন ও কঠোর নিয়মের প্রস্তাব করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ‘লিভ টু রিমেইন’ পাওয়ার আগে আবাসন ও জীবনযাপনের ব্যয় বাবদ সরকারকে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পরিশোধ করতে হতে পারে।

অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতে সোমবার (২৯ জুন) লেবার পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানায়।

বর্তমানে ব্রিটেনের রাজনীতিতে অভিবাসন ইস্যুটি চরম উত্তাপ ছড়াচ্ছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, এটি ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ। এই আবহে একদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে পার্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা মোকাবিলা, অন্যদিকে করদাতাদের অর্থের সাশ্রয়-এই দুই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘আশ্রয় সহায়তা পাওয়া যেমন অধিকার, তেমনি এর পেছনে একটি দায়িত্বও রয়েছে। যখন একজন ব্যক্তি কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন, তখন ব্রিটিশ জনগণের উদারতার প্রতিদান হিসেবে তাদের ব্যয়ের অংশ পরিশোধ করা উচিত বলে আমরা মনে করি।’

তবে এই নিয়ম সবার জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর হবে না। সরকার জানিয়েছে, কেবল আর্থিক সক্ষমতা সম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্করাই এই অর্থ পরিশোধের আওতায় আসবেন। কোনো ব্যক্তি যেন চরম দারিদ্র্যের মুখে না পড়েন, সে বিষয়টিতে সুরক্ষা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুরা এবং অতীতে যারা আবেদন করেছেন, তারা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও ভরণপোষণের পেছনে প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। অস্থায়ী আবাসনে একজন আশ্রয়প্রার্থীর জন্য প্রতি রাতে গড়ে ২৩ দশমিক ২৫ পাউন্ড এবং হোটেলে থাকার জন্য গড়ে ১৪৪ পাউন্ড ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে গত বছর এই খাতে ব্রিটিশ সরকারের মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড। মূলত এই বিশাল ব্যয়ের বোঝা লাঘব করতেই কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার।