https://www.emjanews.com/

17120

politics

প্রকাশিত

১৪ জুলাই ২০২৬ ২০:৩১

রাজনীতি

দল পুনর্গঠনে বিএনপি, বছরের শেষেই হতে পারে জাতীয় কাউন্সিল

মেয়াদোত্তীর্ণ ৭২ সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে জোর

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ ২০:৩১

ছবি: সংগৃহীত

সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বছরের শেষ নাগাদ সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠনের পর বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও এক দশকেও নতুন কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার চলতি বছরের শেষ দিকে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা।

জানা গেছে, দেশের ৮২টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে বর্তমানে ৭২টিরই মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টি পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অধিকাংশ কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হলেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

এছাড়া বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস, ওলামা দল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এসব সংগঠনেও নতুন নেতৃত্ব আনতে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্প্রতি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং তৃণমূলে দলকে আরও সক্রিয় করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে এবার জরিপের ভিত্তিতে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়নের চিন্তা করছে বিএনপি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নতুন কমিটি গঠন সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে ত্যাগী, সংগ্রামী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে এবং এতে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।

জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। এখন রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্বে যাওয়ায় দলের অনেক নেতা সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা পূরণ করা হবে এবং সরকার ও দল নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে।