ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অবশেষে তাদের বাতিল হওয়া লাইসেন্স ফিরে পেয়েছে। তবে তিনটি কঠোর শর্ত মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা এক অফিস আদেশে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পূর্বের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মহসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র সংবাদ মাধ্যমেকে জানায়, গত মে মাসে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা আপিল এবং পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচনায় লাইসেন্স পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী- বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনা সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে; লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; এবং ভবিষ্যতে কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে সরকার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে এক নবজাতকের পরিবার অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, দায়িত্বরত নার্স ও স্টাফদের অবহেলা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অসঙ্গতির তথ্য উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং গত ১১ জুন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আপিল ও পুনঃতদন্তের পর সর্বশেষ সিদ্ধান্তে শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করা হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।
