https://www.emjanews.com/

17404

sylhet

প্রকাশিত

২৭ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৪

সিলেট

আন্তর্জাতিক পানি আইন বাস্তবায়ন ও ন্যায্য বণ্টনের দাবিতে মৌলভীবাজারে সেমিনার

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

নদ-নদী ও হাওর রক্ষায় শুধু সচেতনতার আহ্বান নয়, আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন আইন বাস্তবায়ন এবং উজান-ভাটির দেশ গুলোর মধ্যে ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে মৌলভীবাজারে আয়োজিত 'নদী বাঁচাও,দেশ বাঁচাও'  সেমিনার ও কর্মপরিকল্পনা বক্তারা বলেছেন, নদীকে বাঁচাতে না পারলে পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা- সবই হুমকির মুখে পড়বে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক পানি আইন ও পরিবেশগত ন্যায়বিচার’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ফেলোশিপ অব পিস বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি সনাতন হামোম। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অহৈবম রণজিৎ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নদী আমাদের মাতা, অথচ তার সঙ্গে করা হচ্ছে বিমাতাসুলভ আচরণ। আন্তর্জাতিক ৫৭টি নদীর মধ্যে ৫৬টির পানিবণ্টন নানা সমস্যায় জর্জরিত। নদী, খাল-বিল ও হাওর রক্ষায় সরকার এবং জনগণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, নাগরিকদের সচেতন ও সংগঠিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে জনমতের কারণে এর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন স্থগিত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পিস এমকেএস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সাইং সাইং উ নিনি বলেন, ‘উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে বর্ষায় আকস্মিক বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’

লোকগবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, নদী শুধু পানির উৎস নয়; মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষের শেকড় কোনো না কোনো নদীর তীরে। নদীর বর্তমান অবস্থা আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান বলেন, নদী রক্ষার স্লোগান বহুদিন ধরে শোনা গেলেও কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়।

ভয়েস অব রিভার মনুর প্রধান নির্বাহী আ স ম সালেহ সুহেল বলেন, ন্যায্য পানিবণ্টনের দাবিতে আরও জোরালো জনমত গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত খনন কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার, কবি ও কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু সহ বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবেশকর্মী, লেখক ও গবেষকেরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হীরামনি দেবী।