https://www.emjanews.com/

17456

surplus

প্রকাশিত

৩১ জুলাই ২০২৬ ০১:২৬

অন্যান্য

স্ত্রীকে ঘরের কাজের জন্য বছরে ৩ কোটি এবং প্রতিবার গর্ভধারণ করলে ২ কোটি টাকা দেন

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ ০১:২৬

ছবি: সংগৃহীত

সংসার নামের ছোট্ট পৃথিবীটি প্রতিদিন ঘুরে চলে অসংখ্য অদৃশ্য শ্রমের ওপর। রান্নাঘরের ধোঁয়া, সন্তানের কান্না, ঘর গোছানোর ব্যস্ততা কিংবা পরিবারের সবার স্বস্তির জন্য নিরন্তর ছুটে চলা; এসবের কোনো নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নেই, নেই মাস শেষে বেতনের খামও। অথচ এই নীরব শ্রমের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের ভিত্তি।

সেই অদৃশ্য পরিশ্রমের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টাভিত্তিক ইনফ্লুয়েন্সার ও উদ্যোক্তা ইয়াহদান ইয়াদা। স্ত্রীর গৃহস্থালি কাজ ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বকে তিনি একটি পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে দেখেন। তাই স্ত্রী আজা ইয়াদাকে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা; পারিশ্রমিক দেন। শুধু তাই নয়, প্রতিবার গর্ভধারণের জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি টাকাও প্রদান করেন।

বর্তমানে দম্পতি তাঁদের পঞ্চম সন্তানের অপেক্ষায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের হিসাব অনুযায়ী, সন্তানভাতা ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে আজা ইয়াদার বার্ষিক পারিশ্রমিক প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ভাইরাল হওয়ার আগে ইয়াহদান ইয়াদা বিকল্প স্বাস্থ্যচর্চার কোচ, লাইফস্টাইল কনটেন্ট নির্মাতা এবং ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। পাশাপাশি ইকুয়েডরে ডিটক্স ভিলেজ এবং বিলাসবহুল স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে @yada_awakening নামে তিনি আত্মউন্নয়ন, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে নিয়মিত কথা বলেন।

ইয়াদার দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিশ্বাস; একজন পুরুষের প্রথম দায়িত্ব হলো পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা দেওয়া। তাঁর মতে, মাতৃত্ব কোনো সাধারণ ভূমিকা নয়; এটি সপ্তাহের সাত দিন, দিনের ২৪ ঘণ্টার পূর্ণকালীন দায়িত্ব। তাই শুধু প্রশংসা নয়, এর আর্থিক স্বীকৃতিও থাকা উচিত।

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি স্ত্রীর জন্য গড়ে তুলেছেন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আদলে একটি পারিবারিক পারিশ্রমিক কাঠামো। বার্ষিক মূল বেতনের পাশাপাশি প্রতিটি গর্ভধারণের জন্য আলাদা বোনাস, প্রতিটি সন্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভাতা এবং ব্যক্তিগত শেফ, গৃহপরিচারিকা, স্টাইলিস্ট, কেনাকাটার বাজেট ও সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করা বার্ষিক ছুটির ব্যবস্থাও রয়েছে সেই চুক্তিতে।

তবে এই ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি জন্ম দিয়েছে তীব্র বিতর্কও। সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়িত গৃহস্থালি শ্রম ও মাতৃত্বের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার সাহসী উদ্যোগ এটি। তাঁদের বিশ্বাস, এমন ব্যবস্থা নারীর আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

অন্যদিকে সমালোচকদের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে বেতনভিত্তিক চুক্তিতে রূপ দেওয়া পারিবারিক সম্পর্কের আবেগ ও পারস্পরিক বিশ্বাসকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। কেউ কেউ আবার পুরো বিষয়টিকে ইয়াহদান ইয়াদার ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যবসার প্রচারের কৌশল বলেও মনে করছেন।

বিতর্ক যেদিকেই গড়াক না কেন, একটি প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে; ঘরের ভেতরে প্রতিদিন যে শ্রম নিঃশব্দে পরিবারকে টিকিয়ে রাখে, তার মূল্য কি শুধুই ভালোবাসা, নাকি তারও একটি অর্থনৈতিক স্বীকৃতি প্রাপ্য? ইয়াহদান ইয়াদার আলোচিত উদ্যোগ সেই পুরোনো প্রশ্নটিকেই নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার টেবিলে তুলে এনেছে।