https://www.emjanews.com/

17500

sylhet

প্রকাশিত

০২ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৪৫

আপডেট

০২ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৪৬

সিলেট

সুনামগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত লা/শ উদ্ধার, স্বজনদের দাবি হ/ত্যা

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হালেমা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে পরিকল্পিত হত্যা ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন বলে দাবি করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২ থেকে দেড়টার মধ্যে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রাম এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। 

নিহত হালেমা খাতুন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পিঠুয়া গ্রামের আছাব মিয়ার মেয়ে এবং হাড়গ্রামের সোনু মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে সুনু মিয়ার সাথে হালেমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের একসপ্তাহ পরই তার স্বামী কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া চলে যান। স্বামী প্রবাসী হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে গৃহবধূর বনিবনা হচ্ছিল না এবং প্রতিনিয়ত মনোমালিন্য চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এর সূত্র ধরে শ্বশুরবাড়ির নিজ কক্ষে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

ঘটনার পর পরিবার ও প্রতিবেশীদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ  ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মরদেহ উদ্ধার করে। 

পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, পুলিশ যখন ভিকটিমের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করছিল, তখন নিহতের পরিবারের লোকজন এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে নিহতের চাচা ও নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সালেহ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য হালেমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে তার বাবা দেখতে এসে শারীরিক অবস্থা দেখে কিছুদিন নিজের বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে তা দেওয়া হয়নি। তিনি এটি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে দাবি করে বলেন, ঘটনার পর জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় ঘরের দরজার ছিটকিনি ভেতর থেকে লাগানো ছিল। এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।