https://www.emjanews.com/

17561

international

প্রকাশিত

০৪ আগস্ট ২০২৬ ২২:০৫

আন্তর্জাতিক

৫ বৈদেশিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ ২২:০৫

ছবি: সংগৃহীত

ব্যয় সংকোচন এবং বিদেশে কূটনৈতিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে পাঁচটি বৈদেশিক মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে কংগ্রেসের কয়েকটি কমিটিতে পাঠানো চিঠিতে গ্রানাডার সেন্ট জর্জেস, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের ডুয়ালা এবং কানাডার উইনিপেগে অবস্থিত মার্কিন মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন।

এর আগে গত বছরের শুরুতেও এক ডজনের বেশি বিদেশি মিশন বন্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। রিপাবলিকান প্রশাসনের সরকারি ব্যয় কমানো ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সে সময় হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) প্রায় ৩০টি বৈদেশিক মিশন বন্ধের সুপারিশ করেছিল।

প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন, ছোট আকারের কিছু বিদেশি মিশন পরিচালনা করা ব্যয়বহুল এবং সেগুলো অপরিহার্য নয়।

তবে ডেমোক্র্যাট নেতারা এবং সাবেক পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা এবং ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি)-এর কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এতে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়তে পারে।

গত বছর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে কয়েক ডজন দপ্তর পুনর্গঠন এবং শত শত কর্মী ছাঁটাই করা হলেও তখন কোনো বৈদেশিক মিশন বন্ধ করা হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিশন বন্ধের পরিকল্পনা সরাসরি নিশ্চিত করেনি। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে তারা কাজ করছে এবং কংগ্রেসকে অবহিত করার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বন্ধের তালিকায় থাকা সেন্ট জর্জেস একটি দূতাবাস, মেদান, নাগোয়া ও উইনিপেগ কনস্যুলেট এবং ডুয়ালা একটি দূতাবাসের শাখা কার্যালয়। এসব কনস্যুলেট ও শাখা কার্যালয় সাধারণত রাজধানীর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ দেখভাল করে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নতুন মার্কিন বৈদেশিক মিশন চালু করা হয়েছিল, যেখানে চীনের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা চলছে। বর্তমানে ডুয়ালা ও উইনিপেগে চীনের কোনো কার্যকর কূটনৈতিক মিশন না থাকলেও সেন্ট জর্জেস, নাগোয়া এবং মেদানে চীনের কূটনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে।