ছবি: সংগৃহীত
সিলেটে বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে প্রশাসন। লাইসেন্সবিহীন ও নবায়নহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলা ও মহানগর মিলিয়ে অন্তত ৩৫টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক নামী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে যারা বছরের পর বছর লাইসেন্স নবায়ন না করেই ‘চিকিৎসা বাণিজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই নেই দক্ষ জনবল কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। অদক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে স্পর্শকাতর প্যাথলজি পরীক্ষা, নোংরা অপারেশন থিয়েটার এবং জরুরি মুহূর্তে লাইফ সাপোর্ট বা অক্সিজেন ব্যাকআপের অভাব প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চরম প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নগরীর সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ফেয়ার হেলথ, লায়ন্স শিশু হাসপাতাল, মডার্ন জেনারেল ও সেফওয়ে হাসপাতালসহ আরও বেশ কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
প্রশাসনের এই অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০ জুলাই জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিহাব বিন আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ডিএমটি সেফওয়ে হাসপাতালকে সিলগালা করা হয়। এর আগে দরগা মহল্লার মহানগর হাসপাতালকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং রিকাবীবাজার এলাকার আল আমিন, ল্যাব ডি নোভা ও অ্যাপোলোসহ পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সিলগালা করা হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিলেও তাদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই দক্ষ জনবল ও সরকারি বিধি-বিধান মেনে সেবা দিতে হবে। জনস্বার্থে এই অভিযান ও বিশেষ নজরদারি ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।’ নিয়মিত অভিযানের ফলে বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ করে নতুন করে লাইসেন্সের আবেদন করছে, যার ফলে তালিকার নিয়মিত হালনাগাদ চলছে বলেও তিনি জানান।
