শিরোনাম
কথিত তৌহিদী জনতার বাধা উপেক্ষা করে বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত নেত্রকোণায় মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণ: শিক্ষকসহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ৩০ জন: সিলেটের চার জেলায় কে কোথায়? নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩৩২, বাড়ছে নিখোঁজের তালিকাও নেপালের বন্যার পানি গঙ্গা হয়ে আসছে বাংলাদেশে টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট থেকে লাফ দিয়ে পর্যটকের মৃত্যু সিলেটে উদ্ধার হওয়া লা/শটি কার? জানা যায়নি ২৪ ঘণ্টাতেও সিলেটে এসএমপির অভিযানে ২৯ জন গ্রে/ফতার, বিপুল মালামাল জব্দ সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃ/ত্যু বরফধস ও রাবিশে তৈরি কৃত্রিম লেক বিস্ফোরণ, নেপালে শতাধিক প্রাণহানি

https://www.emjanews.com/

18143

sylhet

প্রকাশিত

২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৫:১৪

আপডেট

২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১১

সিলেট

১৩ সিটি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীর দৌড়: সিলেটে বিএনপির একাধিক মুখ

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৫:১৪

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে ভোটের আবহ। নির্বাচন কমিশন আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে; এমন সম্ভাবনার মধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে।

দলীয়ভাবে নির্বাচন হওয়ার কথা না থাকলেও ১৩টি সিটি করপোরেশনের ভোটকে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে দেখছে দলগুলো। ফলে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী নেতাদের তৎপরতাও বাড়ছে। কোথাও গণসংযোগ, কোথাও ব্যানার-ফেস্টুন; সম্ভাব্য প্রার্থীরা নীরবে জানান দিচ্ছেন নিজেদের উপস্থিতি।

তবে এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনকে ঘিরে। একসময় আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে আলোচিত সিলেট সিটি এবার নতুন সমীকরণের সামনে। বিএনপির একাধিক নেতার নাম ঘুরছে আলোচনায়; পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপিও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিলেটে বিএনপির সম্ভাব্য মুখ কারা?

সিলেট সিটি করপোরেশনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দলটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনায় রয়েছে। একসময় সিলেট সিটির মেয়র পদে বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। এবার অবশ্য সেই সমীকরণ বদলে গেছে। সিলেট-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী হওয়ায় সিটি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা নেই।

ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নতুন কয়েকটি নাম। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান সিটি প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরীর নামও।

এ ছাড়া বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামানের নামও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীও মেয়র পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক বলেও শোনা যাচ্ছে।
একসময় মেয়র পদে অন্যতম দাবিদার ছিলেন রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তবে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হওয়ার পর মেয়র প্রার্থিতার আলোচনায় তার নাম অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

অর্থাৎ, সিলেটে বিএনপির সামনে এখন একাধিক সম্ভাবনার দরজা খোলা। তবে শেষ পর্যন্ত কোন মুখটি দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের আস্থা অর্জন করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

১৩ সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী

সিলেটের মতোই দেশের অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতেও বিএনপির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিটে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি।

ঢাকা দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বর্তমান সিটি প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

ঢাকা উত্তরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও বর্তমান সিটি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

চট্টগ্রামে বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও বর্তমান সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান রয়েছেন আলোচনায়।

রাজশাহীতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত শাহীন, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন অর রশিদ এবং সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

বরিশালে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা সবচেয়ে দীর্ঘ। সেখানে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র কে এম শহিদুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, বর্তমান সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, আবু নাসের রহমাতুল্লাহ, এবায়েদুল হক চান, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন ও অ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম।

খুলনায় আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর, মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি।

কুমিল্লায় রয়েছেন দুইবারের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, বর্তমান প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং নগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু।

রংপুরে বর্তমান প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজুন্নবী ডনের প্রার্থিতা অনেকটাই নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্রের দাবি। পাশাপাশি শহীদুল ইসলাম মিজু ও শামসুজ্জামান শামুর নামও আলোচনায় রয়েছে।

ময়মনসিংহে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ার, অ্যাডভোকেট সৈয়দ এনায়েতুর রহমান ও সাবেক পৌর মেয়র আমিনুল হক।

গাজীপুরে এখনো বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কোনো নাম স্পষ্ট হয়নি। নারায়ণগঞ্জে বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জাকির খান ও রাকিবুল ইসলাম খান আলোচনায় রয়েছেন। নবগঠিত বগুড়া সিটিতে বর্তমান প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, মেয়র পদে এবার ত্যাগী, নির্যাতিত ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। বিতর্কিতদের বিষয়ে থাকবে কঠোর অবস্থান। সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাও যাচাই করছে দল।

জামায়াতের আগাম প্রস্তুতি

বিএনপির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১৩ সিটির মধ্যে বেশিরভাগ জায়গায় তারা আগেই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, চট্টগ্রামে সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী, বরিশালে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুরে এটিএম আজম খান, ময়মনসিংহে কামরুল আহসান এমরুল, নারায়ণগঞ্জে শিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল জব্বার এবং গাজীপুরে হাফিজুর রহমানকে প্রার্থী করেছে দলটি।

তবে সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা ও বগুড়া সিটে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি জামায়াত।

সিলেটের ক্ষেত্রে এই নীরবতাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত সিলেটে কাকে সামনে আনা হবে, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে। খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন; এমন আলোচনা থাকলেও হাইকমান্ড এখনো তা নিশ্চিত করেনি।

কুমিল্লায় মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, মাস্টার মোসলেহ উদ্দিন ও ভিপি মজিবের নাম আলোচনায় রয়েছে। বগুড়ায় আবিদুর রহমান সোহেলকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছয় সিটিতে এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক হলেও সিটি নির্বাচনে নিজেদের প্রতীকে এককভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ইতোমধ্যে ছয়টি সিটে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি।

ঢাকা দক্ষিণে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিলেটে অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল, রাজশাহীতে মোবাশ্বের আলী এবং কুমিল্লায় জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে।

সিলেটে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চট্টগ্রামে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি দলটি। তবে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল ইসলামকে প্রার্থী করার চেষ্টা চলছে বলে একটি সূত্রের দাবি। অন্য সিটগুলোতেও প্রার্থী বাছাই চলছে।

সিটি নির্বাচন এখনো তফসিলের অপেক্ষায়। কিন্তু তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠের প্রস্তুতি বলে দিচ্ছে; এবারের নির্বাচন শুধু মেয়রের চেয়ার দখলের লড়াই নয়, বরং দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, জনপ্রিয়তা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বেরও পরীক্ষা।

গত ২১ আগস্ট গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে অংশ নেবে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

এনসিপিও একই অবস্থান নিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রামের এক কর্মসূচিতে দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা এককভাবে অংশ নেবে।