তারেক রহমানকে ভারত সফরের দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: নয়াদিল্লি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫৩
ছবি: রণধীর জয়সওয়াল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, একটি আমন্ত্রণ ছিল দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ছিল বিমসটেক-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ব্রিকস জোটের সদস্য বা অংশীদার দেশ না হলেও, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। গত ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, এই আমন্ত্রণটি কেবল বিমসটেক চেয়ারের দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ছিল, সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। এমনকি সোমবার জাতীয় সংসদের স্পিকারও মন্তব্য করেছিলেন যে, যথাযথ প্রোটোকল ও মর্যাদা বজায় রেখে ভারত থেকে কোনো আমন্ত্রণ আসেনি। তবে ভারতের পক্ষ থেকে আজ জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে যে, তাকে দুটি ভিন্ন ভিন্ন আমন্ত্রণই পাঠানো হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, তাদের পূর্বঘোষিত দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণটিও এখনো বহাল রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের সময় ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম প্রকাশ বিড়লা ঢাকা সফর করেন। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অভিনন্দনপত্র তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন এবং তাকে সপরিবারে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক মহলের দাবি বাংলাদেশ সরকার বহুমুখী কোনো সম্মেলনের তুলনায় দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সুবিধাজনক সময়ে এই সফরের প্রস্তুতি চলছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, বন্দি প্রত্যর্পণ এবং অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যেই এই কূটনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
