https://www.emjanews.com/

18702

national

প্রকাশিত

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৩

জাতীয়

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃ/ত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৩

জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।

সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও দণ্ডিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছাড়া অন্যদের অর্ধেক সম্পদ জব্দ করে জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের সহায়তায় ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এর আগে ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করে। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল এবং পলাতক সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ও নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদিসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কলরেকর্ড, নথিপত্র, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—হত্যার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। প্রসিকিউশন দাবি করে, আসামিদের নির্দেশ ও সম্পৃক্ততায় সারাদেশে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে এক হাজার ৪০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর আহত করা হয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সাতজনকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়।