ছবি: সিসিক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের নয়, এটি পুরো নগরবাসীর দায়িত্ব। সবাই নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের লন্ডন টাওয়ার সংলগ্ন ভূবি ছড়া এবং আগপাড়া কালভার্ট সংলগ্ন ভূবি ছড়া সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, আমরা নগরবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। স্কুলে গিয়ে শিশুদেরও সচেতন করা হচ্ছে, যাতে তারা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করতে পারে। পলিথিনে ময়লা-আবর্জনা ভরে ছড়া বা ড্রেনে ফেললে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হবে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পানি দূষিত হয়ে বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
তিনি বলেন, আগপাড়া মৌসুমী আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ও খালের জায়গা দখল করে অনেকে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। পানি প্রবাহের জন্য এই খাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং বিভিন্ন স্থানে ছড়া দখল করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এই ছড়াটি একসময় অনেক প্রশস্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে এটি সরু হয়ে গেছে। আমরা সার্ভে করে ছড়ার প্রকৃত অংশ চিহ্নিত করব। যারা ছড়া ও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে। স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে দিলে সবারই উপকার হবে। কেউ স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে না দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছড়া ও ড্রেনে আবর্জনা না ফেলতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, এই ছড়াটি যেখান থেকে শুরু হয়েছে, সেখানে পানির স্বচ্ছতা রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে পলিথিন ও বর্জ্য ফেলার কারণে এখানকার পানি কালো হয়ে গেছে এবং মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে। তাই নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে এবং ছড়া, খাল ও ড্রেনে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার জন্য অনুরোধ করছি।
পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক ভূবি ছড়ার জবরদখলকৃত অংশগুলো চিহ্নিত করে লাল চিহ্ন দেওয়ার মাধ্যমে সেগুলো উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
এ সময় সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদিন, প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দেব, সাবেক কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল, লন্ডন প্রবাসী মিনহাজুর রহমান মিনহাজ, সহকারী প্রকৌশলী সুলতানা জাহান শারমিন এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিসিক প্রশাসক শাহজালাল উপশহরের ‘ই’ ব্লকের ৬ নম্বর সড়কের আরসিসি ঢালাই কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নির্মাণকাজের গুণগত মান সরেজমিনে যাচাই করেন এবং কাজের মান বজায় রেখে নির্ধারিত মান অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এ সময় সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক পাটোয়ারী, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইসমাঈলুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী আহমেদ রহমান ও জাবেদ আহমদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেঘনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফাহাদ আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
