https://www.emjanews.com/

19396

sylhet

প্রকাশিত

০৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৫৫

সিলেট

সৌদিতে ‘বিক্রি’ হওয়া হবিগঞ্জের রেহানা অবশেষে মুক্ত

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৫৫

হবিগঞ্জের মাধবপুরের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন স্বচ্ছল জীবনের আশায় গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর অতিরিক্ত কাজ, খাবার ও বেতন না পাওয়া এবং দেশে ফিরতে না পারার অভিযোগ তুলে গোপনে ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানান তিনি। সেই ভিডিওবার্তা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে থাকা রেহেনাকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশে ফেরানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি।

রেহেনা মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা। প্রায় দুই মাস আগে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরবের জেদ্দায় যান তিনি। পরিবারের আশা ছিল, সেখানে কাজ করে আয় করে সংসারের অভাব কিছুটা কমাবেন। কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার পরই বিপাকে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত ৩ অক্টোবর গোপনে দেশে একটি ভিডিওবার্তা পাঠান রেহেনা। সেখানে তাকে অসুস্থ ও বিপদের মধ্যে থাকার কথা বলতে শোনা যায়। দেশে ফিরিয়ে নিতে সরকারের সহায়তা চান তিনি।

ভিডিওবার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে, ঠিকমতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং বেতন-ভাতাও পরিশোধ করা হয়নি। দেশে ফেরার চেষ্টা করেও তিনি বিপাকে পড়েন। সৌদি আরবের একটি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তার কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে বলা হয়, ‘আমি তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছি।’

রেহেনার পরিবারের অভিযোগ, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য তাকে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও দেওয়া হয়নি। পরে কৌশলে রেহেনার পাঠানো ভিডিও দেশে পৌঁছায়। তার বোন হেনা বেগমও বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তার স্বামী আলী আহমদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এর পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো উদ্যোগ নেয়।

গত ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দেন। চিঠিতে রেহেনাকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এর পর গত ৫ অক্টোবর রেহেনাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপপরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমানে দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঢাকার ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া রেহেনাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রেহেনাকে দেশে ফেরানো হবে। তার বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে।

রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে তার পাওনা বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এসব পাওনা আদায়েও সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গিয়াস উদ্দিনের নাম বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছিলেন, কিছু খরচাপাতি দিলে রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা যাবে।

এদিকে রেহেনার নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া। তার বক্তব্য ছিল, দেশে ফিরতে হলে সংশ্লিষ্ট খরচ বহন করতে হবে।

রেহেনার দেশে ফেরার অপেক্ষায় এখন তার পরিবার। তবে তার পাওনা বেতন-ভাতা আদায় এবং সৌদি আরবে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে পরিবারের।