ছবি: সংগৃহীত
দেশের সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ, মো. আব্দুস সালাম, মো. সাদিক রিয়াজ, মো. ইলিয়াস মোল্লা, মো. মোক্তার আলী ও মাহফুজা হান্নান অংশ নেন।
এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্ভাব্য অর্থবছরের খাতওয়ারি বিভাজন, বাজেট, ব্যয় পরিকল্পনা ও ব্যয় বিভাজন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে কমিটির সামনে তুলে ধরা হয়।
উপস্থাপিত বাজেট ও সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় কমিটির সদস্যরা দেশের প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় এলাকায় নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
একই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে বরাদ্দ করা অর্থ শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটির সদস্যদের বিদ্যালয় পরিদর্শনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় সদস্যরা সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করবেন- এ বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।
এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে চলমান বিদ্যালয় ফিডিং কার্যক্রমে খাবারের মান ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফিডিং কার্যক্রমে নির্ধারিত মান বজায় না থাকলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
