সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে: আমিনুল হক
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘোষণা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৫৩
মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সাংবাদিকদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
অন্যায়কারীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অবশিষ্ট হামলাকারী এবং মূলহোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া মালামালও জব্দ করা হয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কেউ যেন অপপ্রচার চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরের ১ নম্বর সেকশনে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রায় ২০০ ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। তাঁরা সেখানে একটি টিনশেড ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেন। এ ছাড়া পাকা ভবনের আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, টিকাদান কক্ষ ও পরীক্ষাগারসহ পাঁচটি কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়।
হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে আসবাবপত্র, ওষুধসামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও আলমারিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যান বলে রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। এতে পুরো স্থাপনাটির এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনায় ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে যান।
এ ঘটনায় রাজধানীর শাহ আলী থানায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
