ছদ্মবেশে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতেন সাংবাদিক আলিফ, হত্যা মামলায় একজন রিমান্ডে
নেত্রকোনায় গুলিতে নিহত সাংবাদিকের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন, হত্যার কারণ খুঁজছে পুলিশ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ২২:০৩
ছবি: সংগৃহীত
কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশে সীমান্ত এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করতেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি। সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এসব প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে আগেও তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি।
এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বরের এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুরুল আমিন ভূঁইয়া এ আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।
রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম।
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন।
সহকর্মী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য ছদ্মবেশে অপরাধচক্রের কাছাকাছি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন আলিফ। কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির বেশে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন অপরাধের তথ্য জানার চেষ্টা করতেন তিনি।
মাদক, চোরাচালান এবং অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন নিয়ে তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ছিল অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অংশ। সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এসব প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এর আগেও তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছিল।
হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সর্বশেষ পোস্টগুলোর একটিতে একটি ঘোষণা ছিল। তবে ওই ঘোষণার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগে থেকেই হত্যার হুমকি বা নিরাপত্তাঝুঁকি ছিল কি না এবং থাকলে তা মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর গত শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকার পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে।
পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ বলেন, হত্যার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
সাংবাদিক আলিফের হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং আগের কথিত হামলার চেষ্টার সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
