শিরোনাম
বাংলাদেশিদের অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রা ঠেকাতে ঢাকার সহযোগিতা চায় গ্রিস সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, সবচেয়ে বেশি মাদক মামলায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে তিন জেলায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ‘গুজব’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর পদত্যাগ, সেই অ/স্ত্র নিয়ে মুখ খুললেন ইশরাক সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের অভিযানে গ্রেফ/তার ২৭ সিলেটের মহালক্ষ্মীপীঠ ও হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত, আজ মহাঅষ্টমী ফেসবুক পোস্টে জানালেন দুপুরে পদত্যাগ করবেন ইশরাক ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শায়েস্তাগঞ্জে সিলেট অভিমুখী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন সোমবার সিলেটে ক্রীড়াবিদদের সংবর্ধনা দেবেন বাণিজ্যমন্ত্রী, যাবেন পূজামণ্ডপে

https://www.emjanews.com/

19787

international

প্রকাশিত

১৯ অক্টোবর ২০২৬ ২১:১৩

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, সবচেয়ে বেশি মাদক মামলায়

মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বছরের প্রথম ছয় মাসে। হত্যা মামলায় এ সংখ্যা ২৫।

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ২১:১৩

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ২০২৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা আবারও আলোচনায় এসেছে। হত্যা, মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের পরিসংখ্যান বলছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সবচেয়ে বড় অংশই ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে।

ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই সময়ে হত্যা মামলায় ২৫ জন, হত্যা না থাকা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মামলায় ৯ জন এবং অন্যান্য অপরাধে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির সরকারি ঘোষণাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে এ বছর ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। পরদিন, ১৮ অক্টোবর, পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরও এসেছে।

মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বেশি

ইএসওএইচআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে মোট ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৯ জন সৌদি নাগরিক। অর্থাৎ ওই সময়ে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৬৬ শতাংশই ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে।

মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গত ২২ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় পর্যন্ত সৌদি আরবে ৯৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬১ জন মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

কোন অপরাধে কী শাস্তি

সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা শরিয়াহভিত্তিক বিধান, লিখিত আইন ও রাজকীয় আদেশের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অপরাধের ধরন, প্রমাণ, পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য আইনি বিধানের ওপর শাস্তি নির্ভর করে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাদক পাচার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করানো এবং বিদেশ থেকে মাদক এনে বিতরণের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে প্রথমবার অপরাধের জন্য কারাদণ্ড, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তি দেওয়া হতে পারে। পুনরায় একই অপরাধ করলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া সম্ভব।

ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে কিসাসের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। এ ব্যবস্থায় আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব। তবে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা আইনি শর্ত অনুযায়ী ক্ষমা করলে বা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলে মামলার পরিণতি বদলাতে পারে।

সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো গুরুতর অপরাধেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এএফপির ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ ছিল।

অন্যদিকে চুরি, প্রতারণা, মদ বা মাদক সেবনসহ অন্যান্য অপরাধে শাস্তি অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। এসব অপরাধে কারাদণ্ড, জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তি হতে পারে। তবে চুরির মতো নির্দিষ্ট অপরাধে শরিয়াহর বিশেষ শর্ত পূরণ হলে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইন ও মানবাধিকার নিয়ে বিতর্ক

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংস্থাটি সব অপরাধের ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।

ইএসওএইচআরের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৮৩ জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ ছিল না। সংস্থাটির মতে, এ চিত্র মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগের পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির সরকার মৃত্যুদণ্ডকে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার একটি উপায় হিসেবে দেখে। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, আপিলের সব সুযোগ শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।