ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে মস্তিস্কের পরিবর্তে ‘দাঁড়িপাল্লা’, সংশোধনের উদ্যোগ
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:০২
ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা বই সংগ্রহ করে সংশোধনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুনরায় বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মুদ্রণমালিকদের দাবি, বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে সরবরাহ করা বই সংগ্রহ করে সংশোধন করতে হলে বাড়তি সময় ও অর্থের প্রয়োজন হবে। এতে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
এনসিটিবির বই ছাপানোর হিসাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই ছাপানোর কাজে ধীরগতি রয়েছে। এর মধ্যে সরবরাহ করা বই সংগ্রহ, সংশোধন এবং পুনরায় শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগলে বই বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে। আপাতত ছাপার কাজ বন্ধ রাখা এবং মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, দাঁড়িপাল্লা মূলত একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক। এ কারণে প্রতীকটি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
বইয়ে যেভাবে এসেছে দাঁড়িপাল্লা
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে চারটি স্তর রয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক।
উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে একটি বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে ব্যবহার করা হয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।
আগের বইয়ে ছিল মস্তিষ্কের ছবি
আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক ব্যবহারে পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।
তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি।
প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট প্রতীক নেই। ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতিতে প্যাঁচা ও বইয়ের মতো প্রতীকও প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সংশোধনের পর ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে কোন ছবি রাখা হবে, তা এখনো জানায়নি এনসিটিবি।
