https://www.emjanews.com/

19894

national

প্রকাশিত

২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২২:১৪

জাতীয়

গাজীপুরে মাদরাসাছাত্রকে টানা তিন রাত যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২২:১৪

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের গাছায় একটি আবাসিক কওমি মাদরাসায় আট বছরের এক ছাত্রকে টানা তিন রাত যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির মা। এরই মধ্যে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী।

মামলার আসামিরা হলেন মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), মোহাম্মদ মিজান (৩৮) ও মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)। তাঁদের মধ্যে অলিউল্লাহ ইসলাম ওই মাদরাসার শিক্ষক। বাকি দুজন তাঁর সহযোগী বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে নগরীর গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকার ডেঙ্গুর আলী সড়কে অবস্থিত দারুল হেদায়া কওমি মাদরাসার আবাসিক বিভাগে ছেলেকে রেখে যান তার মা।

১৩ অক্টোবর দুপুরে শিশুটি বাসায় খেতে গেলে গোসল করানোর সময় শরীরের একটি অংশে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানায়। ব্যথার কারণ জানতে চাইলে সে মাকে জানায়, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শিক্ষক অলিউল্লাহ ইসলাম তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখান। পরে মাদরাসার স্টোররুমে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ করে শিশুটি।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টা এবং ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একই স্থানে নিয়ে শিশুটিকে আবারও যৌন নিপীড়ন করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিশুটির মা বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে জানান। তবে মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে কৌশলে মাদরাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন বাদী।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গাছা থানায় শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মামলার বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।