https://www.emjanews.com/

19895

law-justice

প্রকাশিত

২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২২:২০

আইন আদালত

কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে পাচার ও ধর্ষণ, দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২২:২০

কারাদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশি

কানাডায় এক বাংলাদেশি নারীকে মানবপাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের একজনকে ১৪ বছর এবং অন্যজনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীর বকেয়া মজুরি পরিশোধেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের বৃহস্পতিবারের (২২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সাজাপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি হলেন সোহেল হায়দার ও মো. মাসুম। ওই নারীকে পাচার ও একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে মাসুমকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ তাঁকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডীয় ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মানবপাচারে জড়িত থাকার দায়ে সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁকেও বকেয়া মজুরি বাবদ পাঁচ হাজার ৮৮৫ কানাডীয় ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কানাডার সাসকাচুয়ানে পাচার ও চরম শোষণের শিকার ওই নারী এখনও ভীতি ও শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, দুই ব্যক্তির মাধ্যমে পাচার ও শোষণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের একজনের হাতে বারবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। এ ঘটনার পর কাউকে বিশ্বাস করতেও তাঁর কষ্ট হচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে মানবপাচারের অভিযোগে সোহেল ও মাসুম দোষী সাব্যস্ত হন। বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণার জন্য তাঁদের সাসকাচুয়ানের প্রাদেশিক আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমি ওদের ভুলতে পারি না। তারা আমার স্বপ্ন ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। তারা আমার সম্মান, আমার ভবিষ্যৎ, আমার পরিবার এবং আমার ক্যারিয়ার-সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে।’

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, কানাডায় তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাঁর এলাকায় নানা গুঞ্জন ও গুজব ছড়িয়েছে। এতে পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি তাঁর ভাইবোনদের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কানাডায় যাওয়ার পর ওই নারীকে নিজেদের রেস্তোরাঁয় কাজ দেন মাসুম ও সোহেল। একপর্যায়ে কাজের অনুমতিপত্র বাতিল করে দেওয়া এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন তাঁরা।

অভিযোগ রয়েছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীকে সপ্তাহের প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হতো। অথচ তাঁকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হতো না। এমনকি তাঁকে একটি স্যাঁতসেঁতে ও অন্ধকার বেজমেন্টে আটকে রাখা হতো।

পরে স্থানীয় দুই রাজনীতিক ও একজন অভিবাসনকর্মীর সহায়তায় ওই নারী উদ্ধার হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে সাসকাচুয়ান রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) সোহেল ও মাসুমকে গ্রেপ্তার করে।

এরপর প্রায় ১৮ মাসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন।