চাঁদাবাজ ও অনেক এমপি-মন্ত্রীর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না: সিলেটে শফিকুর রহমান
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৪৪
দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন? তাঁরা সংসদে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চান। সরকারের ভালো উদ্যোগকে সমর্থন করবেন, তবে ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা করতেও পিছপা হবেন না।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আর আমরা কি বসে থাকব? ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে? সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন?’
তিনি বলেন, অতীতে দেশে এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল, যেখানে সরকারি দলের সবকিছু ভালো এবং বিরোধী দলের সবকিছু খারাপ হিসেবে তুলে ধরা হতো। এমনকি সরকারি দল কিছু বলার আগেই বিরোধী দল সমর্থন জানিয়ে দিত। বর্তমানে তাঁরা প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্বে রয়েছেন। কেউ চান, তাঁরা সংসদে ভাঙচুর করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করুন। আবার সরকারি দল চায়, তাঁরা সব বিষয়ে সমর্থন জানাক। তবে তাঁরা এ দুই অবস্থানের কোনোটিই গ্রহণ করতে চান না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, পুলিশের মধ্যে অনেক দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদক নির্মূলে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত।
জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং সরকারি কর্ম কমিশনের দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হলো না কেন?
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজেরা কোনো দলের নয়; তাঁরা সংশ্লিষ্ট দলকে ডুবিয়ে দেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, নীতির প্রশ্নে কাউকে বড় করে দেখার সুযোগ নেই। কেউ ভুল করলে তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত, কিন্তু অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
নিজ দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, ওই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে তাঁরা ২৪ ঘণ্টাও সময় নেননি। তাঁর সঙ্গে দলের আর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের কোথায় কী ঘটছে, তা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তবে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে সংবাদমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে। সাংবাদিকদের আরও সাহসী ও নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চারটি চোখ থাকতে হবে। দেশের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
দেশকে সবার উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, বহুমাত্রিক সমাজ ও বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রয়োজন। দেশের সব দল ও ধর্মের মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।
সম্প্রতি দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশের স্বার্থে কাজ করা। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতা তাঁদের মূল লক্ষ্য নয়; দেশবাসী ভালো থাকাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী তাঁদের বিচার হবে। তবে বন্দীদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা উচিত, যাতে তাঁরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, তা জানা যায়। বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় কমে আসার প্রসঙ্গ তুলে প্রবাসীদের আন্দোলনের সফলতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান জানান, তাঁরা জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন না। অতীতেও তাঁরা এভাবে নির্বাচন করেননি। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
